একনজরে সুনামগঞ্জ জেলা

শোনা যায়, সুনাম উদ্দিন নামে জনৈক সিপাহী একটি গঞ্জ বা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরে উপজেলা, মহকুমা ও জেলা শহরে রুপান্তরিত হয়। বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার নাম ছিল বনগাঁও। ১৮৭৭ সালে সুনামগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠত হয়। ১৯৮৪ সালে জেলায় রুপান্তরিত হয়। জেলায় মোট ৮১টি ইউনিয়ন এবং ২৭৭৩টি গ্রাম আছে। জেলার প্রথম হাইস্কুল সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৭ সাল সুনামগঞ্জ সদরে, দ্বিতীয় হাইস্কুল দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৫ সালে দিরাই উপজেলায়, তৃতীয় হাইস্কুল ব্রজন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৯ সালে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁওয়ে। ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ।

 

ভৌগোলিক সীমানা

উত্তরে খাসিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড়, পূর্বে সিলেট জেলা, দক্ষিণে হবিগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে নেত্রকোনা জেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলা।

উপজেলাসমূহ

ছাতক উপজেলা
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা
দিরাই উপজেলা
ধর্মপাশা উপজেলা
দোয়ারাবাজার উপজেলা
জগন্নাথপুর উপজেলা
জামালগঞ্জ উপজেলা
তাহিরপুর উপজেলা
শাল্লা উপজেলা
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা

 

সড়ক যোগাযোগ

সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কটিই জেলার সড়ক যোগাযোগের প্রধানতম পথ। এ পথেই রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা হয়। সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা হয়ে নেত্রকোনা জেলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের নিমিত্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকল্প নির্মাণাধীন। এছাড়া সুনামগঞ্জ-ছাতক আঞ্চলিক সড়ক, সুনামগঞ্জ-দিরাই আঞ্চলিক সড়ক, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর আঞ্চলিক সড়ক, সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর আঞ্চলিক সড়কের মাধ্যমে জেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে উপজেলাগুলো।

 

রেল যোগাযোগ

জেলার ছাতক উপজেলার সাথে সিলেটের রেল যোগাযোগ রয়েছে। রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনে সিলেট-ছাতক হয়ে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ পরিকল্পনাধীন।

 

নৌ যোগাযোগ

প্রাচীন কাল থেকে সুনামগঞ্জের সাথে ঢাকা শহরের নৌ যোগাযোগ ছিল। সুরমা নদী হয়ে এ যোগাযোগ এখনো অব্যাহত আছে।

 

দর্শনীয় স্থান

টাঙ্গুয়ার হাওর।
হাসন রাজার বাড়ি।
নারায়ণতলা।
সৈয়দপুর গ্রাম।
নারায়ণতলা মিশন।
পণতীর্থ স্মৃতি ধাম।
বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ।
লাউড়েরগর।
ডলুরা স্মৃতি সৌধ।
টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প।
সুখাইড় জমিদার বাড়ী।
শাহ কালাম কোহাফাহ্‌ (রহ) রওজা ।
ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয় পাইল গাও।
পাইল গাও এর জমিদার বাড়ি।

 

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

সৈয়দ শাহনুর, (১৭৩০- ১৮৫৪) একজন বাংলাদেশী মরমী কবি ও সাহিত্যিক। তিনি সাধক কবি ও পীর হিসেবে সমধিক পরিচিত।
রাধারমণ দত্ত, বা রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ (১৮৩৩ – ১৯১৫) হলেন একজন বাংলা সাহিত্যিক, সাধক বৈঞ্চব কবি, ধামালি গান ও নৃত্যের প্রবর্তক।
হাসন রাজা, (২১ ডিসেম্বর, ১৮৫৪ – ৬ ডিসেম্বর, ১৯২২) বাংলাদেশের একজন মরমী কবি এবং জমিদার ।
দুর্বিন শাহ, মরমী কবি
সৈয়দা শাহার বানু, (১৯১৪-১৯৮৩) ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং সিলেটে নারী জাগরণের অগ্রদূত।
শাহ আবদুল করিম, (জন্ম: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৬ – মৃত্যু: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৯) বাংলা বাউল গানের কিংবদন্তী।
মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী (সেপ্টেম্বর ১, ১৯১৮ – ফেব্রুয়ারি ১৬, ১৯৮৪), বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
আব্দুস সামাদ আজাদ, (১৫.০১.১৯২৬ – ২৭.০৪.২০০৫), রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রদূত, সাবেক এমপি, বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ৫ম সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা।
কমরেড বরুণ রায়, রাজনীতিবিদ
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, রাজনীতিবিদ, সাবেক এমপি ও রেলমন্ত্রী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ।
কাকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্দা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর।
সুহাসিনী দাস (জন্ম ১লা ভাদ্র ১৩২২ (বঙ্গাব্ধ) – মৃত্যু মে ২৫, ২০০৯) বাংলাদেশী নারী সংগঠক যিনি বৃটিশ বিরোধী এবং ভারতের স্বাধীনতা অন্দোলনের পূর্ব বাংলায় বিপ্লবী ভূমিকা পালন করেন।
দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, দার্শনিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক।
মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সাবেক সচিব, এমপি ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী।
আনোয়ার চৌধুরী (জন্ম ১৫ জুন ১৯৫৯), একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশী কূটনীতিবিদ। তিনিই প্রথম কোন বাঙালি যিনি ব্রিটিশ হাই কমিশনার হিসাবে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. মোহাম্মদ সাদিক, সাবেক সচিব ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কর্ম কমিশন
রামকানাই দাশ, একুশে পদকপ্রাপ্ত শাস্ত্রীয় ও লোকসংগীতশিল্পী এবং সংগ্রাহক।
সুষমা দাস, একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকসংগীতশিল্পী।
ধ্রুব এষ, চারুকলা শিল্পী ও প্রচ্ছদ শিল্পী।
নজিবুর রহমান, সচিব ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
মানিক লাল রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন শিক্ষক, রাজনীতিবিদ।
জহিরুল আলম সিদ্দিকী, ক্যান্সার বিজ্ঞানী; গবেষক, গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া।

You may also like...