বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার পাচ্ছেন মোহাম্মদ সাদিক ও ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ

বাংলা একাডেমি পুরষ্কার পাচ্ছেন সুনামগঞ্জের সন্তান ড. মোহাম্মদ সাদিক ও ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৬০ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর দশটি বিভাগে বারোজন লেখক এ পুরস্কার পাচ্ছেন, যাদের মধ্যে স্থান পেয়েছেন ড. সাদিক ও ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ।

কবিতায় অবদান রাখায় কবি মোহাম্মদ সাদিককে এবং শিশুসাহিত্যের জন্য ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থকে পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তবে এ দু’জন ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন আরো একজন সিলেটি। বিয়ানীবাজারের সন্তান স্থপতি শাকুর মজিদ পুরষ্কার পাবেন ভ্রমণসাহিত্যের জন্য।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এক সংবাদ সম্মেলনে পুরষ্কার জয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। পুরস্কার হিসেবে দেয়া হবে একলক্ষ টাকা, সনদপত্র ও স্মারক।

এর আগে কবি আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সাহিত্য পুরষ্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (বিপিএসসি) এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষাসচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের ধারারগাঁওয়ে জন্ম নেন সাদিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১৯৭৬ সালে বিএ এবং ১৯৭৭ সালে এমএ ডিগ্রীধারী ড. মোহাম্মদ সাদিক যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৯৪-৯৫ সালে পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট-এর উপর পড়াশুনা করেন এবং পরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সিলেটিনাগরী লিপির ওপর তাঁর গবেষণার জন্যে ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সক্রিয় আছেন। তিনি বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর জীবন-সদস্য। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ও বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার সুখাইড় গ্রামে ১৯৪৫ সালের ২৭ জুলাই সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থের জন্ম। বাবা সুধাংশু শেখর রায় চৌধুরী ও মা নীলিমা চৌধুরী। সম্ভ্রান্ত এই পরিবারে কন্যা শিশুর আগমনকে লক্ষ্মীর আগমন বলে ধরা হত। তাই তাঁর জন্মতিথিতে উলু ধ্বনিতে মুখর হয়েছিল বাড়ী। শাক বেজেছিল মধুর সুরে। আর ছিল অঝোর ধারায় বৃষ্টি। চাচা বিমলকান্তি সেদিনের সেই পরিবেশের সাথে মিলিয়ে তার নাম রাখলেন ঝর্ণা। তিনি লিখছেন পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে। তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধ। প্রকৃতি ঘনিষ্ঠতা তাঁর রচনার অন্যতম দিক। পাশাপাশি বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উৎসাহী নবীন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। শিশু মনস্তত্ত্বের স্বচ্ছ ও সাবলীল প্রকাশে উজ্জ্বল তাঁর শিশু সাহিত্য। সহজ সরল বর্ণনা ও জীবনমুখী ভাবনা তার রচনার প্রাণ। ঝর্ণা দাশের উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ভুতু ও টুনটুনের স্বপ্ন, ডালির মেম পুতুল, ইভানের কাজলা দিদি, রং মাখা শার্ট, মুশকিল আসান মামা, টুসি আমার টুসি, লালুর মুক্তিযুদ্ধ, মেঘ জোসনার টুপুর, টুলটুলের রঙিন বেলুন, টক ঝাল মিষ্টি। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-১৪২১ এর জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।

এছাড়াও এবার যারা সাহিত্য পুরষ্কার পাচ্ছেন, তাঁরা হলেন- কবিতায় কবি মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হুসাইন, প্রবন্ধে মাহবুবুল হক, গবেষনায় রফিকউল্লাহ খান, অনুবাদে আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল হাসান ভূঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, নাটকে মলয় ভৌমিক এবং বিজ্ঞান ও কল্পকাহিনিতে মোশতাক আহমেদ।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *