গৌরারঙের মেয়ে স্বপ্নার সাফল্য

পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল সুনামগঞ্জের গৌরারঙ ইউনিয়নের নিধিরচর গ্রামের মেয়ে তাসনিম স্বপ্নার। এই আগ্রহই তাকে এনে দিয়েছে সফলতা। ৩৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

স্বপ্নার বাবা মো. আলতা মিয়া ব্যবসার পাশাপাশি নিজের কৃষি জমি দেখাশোনা করতেন। মা আম্বিয়া খাতুন গৃহিণী। স্বপ্না বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পড়াশোনা করেন ইয়াকুব উল্লাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে। উচ্চমাধ্যমিক পড়তে ভর্তি হন সিলেটের এমসি কলেজে। হঠাৎ গ্রাম থেকে শহরে গিয়ে মানিয়ে নেওয়া তার জন্য কষ্টের ছিল। ‘মেয়েকে পড়াশোনার জন্য কেন শহরে পাঠাচ্ছ?’ গ্রামে বসবাসকারী বাবা এলাকার অনেকের কাছেই এমন কথা শুনলেও মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন। নিজের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু স্বশিক্ষিত মানুষটি চাইতেন মেয়ে যেন উচ্চশিক্ষিত হয়; তাই মেয়েকে নিয়ে ভর্তি করিয়ে দেন এমসি কলেজে। নতুন জায়গায় মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও স্বপ্না সময় নষ্ট করতেন না, সবসময়ই পড়াশোনায় ডুবে থাকতেন।

সিনিয়র শিক্ষার্থীদের অনেককে বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে দেখে সেসময় থেকেই তারও বিসিএসের প্রতি আগ্রহ জাগে। তবে তার ইচ্ছা ছিল মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হওয়ার। ২০০৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর অবসর কাটাতে বাড়িতে এলেন স্বপ্না। এরমধ্যে হঠাৎ একদিন বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো মা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। সে সময়টায় পড়াশোনা বা অন্য সবকিছুর কথা ভুলে গিয়ে মায়ের পাশেই সময় কেটেছে তার। প্রায় এগারো মাস পর মা কিছুটা সুস্থ হলেন, কিন্তু ততদিনে মেডিক্যালে ভর্তিপ্রস্তুতি দূরে থাক, স্বপ্নার পড়াশোনাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। শেষমেশ পরের সেশনে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেলেন।

স্নাতক শেষ করার পর স্বপ্না বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেটে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। চাকরির কারণে বিসিএসের কোচিং করার মতো সময় হয়ে ওঠেনি। এরপর নিজে নিজেই বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। প্রথমবার ৩৫তম বিসিএসে অংশ নিয়ে কোনো ফল পেলেন না। দমে না গিয়ে পরের বার অংশ নিলেন ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায়। এবার নন-ক্যাডারে হলো। মাঝে সরকারি কর্মকমিশনে সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সেখানে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দিলেন সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে। কিন্তু স্বপ্ন দেখছিলেন ক্যাডার অফিসার হবেন, তাই হাল না ছেড়ে অংশ নিলেন ৩৭তম বিসিএসে। ফলাফল প্রকাশের পর দেখলেন তিনি পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

স্বপ্না বলেন, ‘এই সফলতার পিছনে সব কৃতিত্ব মা-বাবার, শিক্ষকদের ও ছোট ভাই-বোনদের। সবাই সবসময় তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।’

সুনামগঞ্জমিরর/এসটিএম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *