দেশের উন্নয়নে অবদান রাখুন

সালমান ফার্সি: আমরা সারাজীবন যেটুকু পড়াশুনা করি তা কাজে লাগিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ অনেক বেশি পাওয়া যায় ক্যাডার সার্ভিসে যোগদানের মাধ্যমে। এই সার্ভিসের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও অন্যরকম। দেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশের মানুষের উন্নয়ন অবদান রাখার তাড়নাও দিন দিন বাড়ছে। আর এই ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করার একমাত্র পথ যেহেতু বিসিএস পরীক্ষা, তাই পড়াশোনা শেষ করে অধিকাংশই বিসিএসের দিকে ঝুকছেন।

তবে এসব কারণ ছাড়াও পদন্নোতির স্পষ্টতার কারণেও আমার ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেয়ার ইচ্ছা সবসময়ই ছিল।  আমি কখনওই বিসিএস পরীক্ষার জন্য কোন বিশেষ পড়াশোনা করিনি। মূলত সবসময়কার পড়াশোনা, আলাপ আলোচনা, পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন, মুভি ইত্যাদির মাধ্যমে যা জেনেছি তাই বিসিএস পরীক্ষার সময় কাজে লেগেছে। তাছাড়া নিজে থেকে লিখার অভ্যাসটা লিখিত পরীক্ষার সময় কাজে লেগেছে।

বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের পর নিজের মধ্যে সবচেয়ে বড় কোন পরিবর্তন আসলে আমি লক্ষ্য করি নি। তবে আমার প্রতি আশেপাশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনটা চোখে পরেছে। অনেক জায়গায় আগের চেয়ে গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এখনও এমন কিছুই করি নি যার জন্য আমি গর্ববোধ করতে পারি। তবে এই ভেবে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি যে মানুষের জন্য ইতিবাচক কিছু করার সুযোগ পাচ্ছি। তাছাড়া যখন দেখি আমার আসে পাশের মানুষ আমার জন্য আনন্দিত হয় তখনই ভাল লাগে। এর পাশাপাশি দেশের জন্য সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করার তাগিদ মনের ভেতর থেকেই অনুভব করছি।

প্রকৃতপক্ষে বর্তমানের নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিসিএস এর দিকে ঝোকার মূল কারণই হল এই দেশের উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখার তাড়না। আমি আমার সহকর্মীদের অনেককেই দেখেছি যারা অনেক ভাল বেতন, সুযোগ সুবিধাদি বিসর্জন দিয়ে শুধুমাত্র দেশের মানুষের জীবন উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দিয়েছেন। তবে এটাও সত্য লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীরর মধ্যে যেহেতু প্রতি বিসিএসে মাত্র দুই তিন হাজার ক্যাডার সার্ভিসে যোগদানের সুযোগ পান তাই পরীক্ষার্থীদের সিংহভাগের মধ্যেই হতাশা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত নিয়োগ পেতে প্রায় দুই আড়া

ই বছর সময় লেগে যায়। তাই আমি মনে করি পড়াশুনা শেষ করে বিসিএস এর চেষ্টা করার পাশাপাশি সবাইকে কোন কাজে লেগে যাওয়া উচিত। আমার পরিচিতজন দের মধ্যে সাম্প্রতিক যারা বিসিএস এর মধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই অন্য কোন কাজ করতেন।

সবার জন্য শুভকামনা।

লেখক: সহকারী পুলিশ সুপার, ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ)।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *