টাঙ্গুয়ার হাওরের অপূর্ব সৌন্দর্য্য

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওর অবস্থিত। বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপাতপ্রবণ এলাকা চেরাপুঞ্জিরখুব কাছেই এটির অবস্থান। রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃত ও জীববৈচিত্রসমৃদ্ধ এ হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। আর প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই হাওরে বেড়াতে আসেন অসংখ্য পর্যটক। সাগরের মত দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি, একদিকে সবুজে ঢাকা মেঘালয় পাহাড় ও পানিতে মাথা উঁচু করে থাকা হিজল-করচ গাছের সারি, কখনো কখনো মুষলধারে বৃষ্টি, সবমিলিয়ে বৈচিত্র্যময় এক পরিবেশের সাথে পরিচয় হয়। নৌকায় ভাসতে ভাসতে এ প্রকৃতিকে উপভোগ করেন পর্যটকরা। একইসঙ্গে পরিচয়ঘটে হাওরবাসীর সংগ্রামী জীবনের সাথে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে মানসম্মত আবাসন, নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওরের অবস্থান। ৯ হাজার ৭শ ২৭ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ২৬বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই টাঙ্গুয়ার হাওর। এই জলাভূমিতে ৫২টি বিল ও ১২০টি কান্দা রয়েছে। ১৪১ প্রজাতির মাছ, ২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২১৯ প্রজাতির পাখি, ৯৮ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি, ১২১ প্রজাতির দেশিয় পাখি, ২২ প্রজাতির পরিযায়ী হাঁস, ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৯ প্রজাতির সরিসৃপ, ১১ প্রজাতির উভয়চর অসংখ্য জলজ, স্থলজ ও জীববৈচিত্র রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরে।

শীত, গ্রীস্ম ও বর্ষা একেক ঋতুতে এই হাওড় একেক রূপ ধারণ করে। বর্ষায় অন্যান্য হাওরের সঙ্গে মিশে এটি যেন সাগরে রূপ নেয়। শুকনো মৌসুমে ৫০-৬০ টি আলাদা বা সংযুক্ত বিলে পরিণত হয় পুরো হাওর। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য হিজল-করচ গাছ, নলখাগড়া, দুধিলতা, নীল শাপলা, পানিফল, শোলা, হেলেঞ্চা, বনতুলসিসহ শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদ হাওরকে দৃষ্টিনন্দন করে। অক্টোবর থেকে এই হাওরে শুরু হয় পরিযায়ী পাখির সমাবেশ। স্থানীয় জাতের পানকৌড়ি, কালেম, দেশী মেটে হাঁস, বালিহাঁস, বকসহ শীত মৌসুমে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী পাখি এখানে এসে বিশ্রাম করে। হাওরে বেড়াতে আসার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় শীতকাল। তবে সাম্প্রতিককালে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটায় সারাবছরই পর্যটকরা হাওরে বেড়াতে আসছেন। আকাশজুড়ে থাকা মেঘের রাজ্য, অদূরে সবুজে ঢাকা পাহাড়, বিস্তৃত নীল জলরাশি আর মাথা তুলে থাকা হিজল-করচ গাছের বন দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। মূলত সুনামগঞ্জ শহর থেকে সুরমা নদীর উপর আব্দুজ জহুর সেতু নির্মাণহবার পর যোগাযোগব্যবস্থা ভাল হওয়ায় পর্যটক বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদ বা অন্যান্য ছুটির সময়ও অনেক মানুষ বেড়াতে আসেন বলে জানা গেল। তবে পর্যটক বাড়লেও এটি অবকাঠামোগতভাবে পর্যটনকেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য লাভ করেনি। ব্যবস্থাপনায় রয়ে গেছে দুর্বলতা। দূর-দূরান্ত থেকে যেসব পর্যটকরা বেড়াতে আসছেন তাদের জন্য ভালোমানের হোটেল, মানসম্মত খাবার হোটেল, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এসব বিষয়ে সরকার নজর দিয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করলে পর্যটক আরও বাড়ত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন্দন কান্তি ধর বললেন, থানাপুলিশের স্বল্পসংখ্যকসদস্য নিয়ে নিয়মিত ডিউটির পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তার নজররাখা পুরোপুরি সম্ভব হয়না, তাই এখানে টুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প স্থাপন করা উচিত।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ বলেন, হাওরে পর্যটনের মানোন্নয়নের নানা উদ্যোগের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন মহলের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর চ্যানেলে টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে  প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *