গানেই পরিচয় হাওরকন্যা ঐশীর

স্কুলে পড়ার সময় থেকেই মঞ্চে গান গাইতেন। গানের অসাধারণ কণ্ঠের জন্য হয়ে ওঠেন শহরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ। সুনামগঞ্জের মেয়ে রাকিবা ইসলাম ঐশী যখন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠে অংশ নেন, তখন সুনামগঞ্জ বন্যাকবলিত। বন্যায় হাওরের ফসল হারিয়ে হাওরপাড়ের মানুষ অসহায়। কিন্তু এই হাওরের মানুষ তো সুখে দুঃখে সবসময় গান ভালোবাসে, তাই সেসময় সেরাকণ্ঠে ঐশীর একের পর এক দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য অনেকেই ভালোবেসে তার নাম দেন ‘হাওরকন্যা’। শেষপর্যন্ত সেরার মুকুটটাও ওঠে এই হাওরকন্যার মাথায়। সুনামগঞ্জ মিররের পাঠকদের জন্য ঐশীর গল্প বলেছেন সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার

আধো আধো কথা বলার বয়সেই গানের সঙ্গে পরিচয় ঐশীর। এবার সেই গান দিয়েই জয় করলেন পুরো দেশ। হাজার-হাজার প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে ফিজআপ-চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের ষষ্ঠ আসরে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি।

ঐশী বলেন, ‘মা-বাবা গান গাইতে না পারলেও গান শুনতে ভালোবাসেন। আমাকে সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন।’ ঐশীর গানের হাতেখড়ি হয়েছিল তার ছোট খালার কাছে। সেসময় মেয়ের আগ্রহ দেখে সরকারি কর্মকর্তা বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা আতিফা ইসলাম সাথী উৎসাহ দিতে শুরু করেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ওস্তাদ গৌরাঙ্গ চন্দ্র মল্লিকের কাছে গান শেখার সময় থেকেই গান তার ধ্যানজ্ঞান। আর তাই পড়াশোনায় ভালো ফলাফল, মঞ্চনাটকে অভিনয়, ছবি আঁকা, আবৃত্তি, সাইকেল চালানোসহ ঐশী আরো অনেক কাজে পারদর্শী হলেও, গান গেয়েই তার পরিচয় তৈরি করেছেন।

রাকিবা ইসলাম ঐশী ছোটবেলায় গানে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। এবারের সেরাকণ্ঠে অংশ নেওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই অংশ নিতে ইচ্ছা হলো। অডিশন দিতে গিয়ে দেখি মেয়েদের কোনো লাইন নেই। ভাবলাম অডিশন শেষ, এবার হয়তো অংশ নিতে পারব না। তখন আমার এক বন্ধুর মাকে বেরিয়ে আসতে দেখি, তিনি বললেন, এখনো মেয়েদের অডিশন চলছে। তড়িঘড়ি করে ভিতরে গিয়ে অডিশন দিয়ে ইয়েস কার্ড পেলাম। এরপর এক এক করে ধাপ পার হতে হতে আশা জাগছিল, কিন্তু কখনোই ভাবিনি আমি এতদূর আসতে পারব।’

ঐশী আরো বলেন, ‘দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা এ আয়োজনে বিচারক ছিলেন—সামিনা চৌধুরী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, মিতালি মুখার্জী, কুমার বিশ্বজিত্। তাদের সামনে গান গাইতে পেরেই তার খুব ভালো লেগেছে।’ যেদিন থাইল্যান্ডে সেরাকণ্ঠের গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হলো, এর পরদিনই ছিল ঐশীর জন্মদিন। তাই এটা তার নিজেকে দেওয়া সেরা উপহার!

ঐশী গান ছাড়াও ঘুরতে, আড্ডা দিতে আর গল্প করতে ভালোবাসেন। অবসরে বই পড়েন। জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ তার সবচেয়ে পছন্দের বই। ভালো লাগে জহির রায়হানের লেখা। প্রিয় চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’। শুধু এসবই না, পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। ২০১৩ সালে সুনামগঞ্জের এসসি গার্লস হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৫ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ এইচএসসি পাস করে এখন পড়ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে।

শেয়ার করুন