একদল স্বেচ্ছাসেবী তরুণের উদ্যোগে উত্তরণ ক্লাব

শেয়ার করুন

করোনাকালীন সময়ে ২০০ পরিবারের জন্য উত্তরণ ক্লাবের সহায়তা

২০১৭ সালের মার্চ মাস। সুনামগঞ্জ পৌরসভার কালিপুর উত্তরপাড়ার কিছু তরুণ একত্রিত হয়ে ভাবছিলেন, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সেবামূলক কাজের জন্য কিছু একটা করবেন। সিদ্ধান্ত হল, সকলে মিলে একটি সংগঠন গড়ে তুলবেন। সানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা থেকে ওই মাসের ৭ তারিখ যাত্রা শুরু করে উত্তরণ ক্লাব। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার  পর থেকেই তারা বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে তারা এলাকার ভাঙ্গা সড়কের সংস্কার করেন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে, যাতে মানুষের চলাচলে অসুবিধা না হয়।

যখনই প্রয়োজন তখনই এমন উদ্যোগ নিচ্ছেন উত্তরণ ক্লাবের সদস্যরা। এছাড়াও এলাকার তরুণদেরকে মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রাখতে প্রতিবছর নাইট ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর আয়োজন করা হচ্ছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মানসিকতার বিকাশ হয় এবং তারা পড়াশোনার প্রতি আরো আগ্রহী হয়ে উঠে।

উত্তরণ ক্লাবের উদ্যোগে সবার মধ্যে মেলবন্ধন বাড়িয়ে তুলতে প্রত্যেক ঈদে এলাকার সব ছেলেরা একই রং এর পোশাক পরে। এলাকার মসজিদের অবকাঠামো তৈরিতে স্বেচ্ছাশ্রম দেয়ার পাশাপাশি মসজিদে প্রস্রাবখানা না থাকায় তারা বিত্তবানদের কাছ থেকে টাকা তুলে ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে তা তৈরি করে দেয়।

এছাড়াও প্রতি বছর তারা বনভোজন আয়োজন করে এলাকার সবাইকে নিয়ে। করোনা নিয়ে যখন সারা বিশ্ব স্থবির তখন উত্তরণ ক্লাব চাঁদা তুলে প্রায় ২০০ মধ্যবিত্ত পরিবারকে সহায়তা করেছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নোমান বলেন, “আমাদের এলাকা আমাদের পরিবারের মত। এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধান করা মানে হলো আমাদের পরিবারও এর সুফল ভোগ করবে।” সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ জমিরুল হক মিঠু বলেন, “যেহেতু আমরা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান তাই অনেক সময় কাজ করতে গিয়ে অর্থের সংকট হয়। তারপরও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”


স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম আহমদ বলেন, উত্তরণ ক্লাবের সদস্যদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে এলাকায় ইভটিজিং, মাদক, জুয়া দূর হয়ে যাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে ভাল কাজ। উত্তরপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, ছেলেরা ভাল কাজ করছে। তাদের কাজ দেখে ভাল লাগছে। এধরনের কার্যক্রমে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।


শেয়ার করুন