সুনামগঞ্জে বাড়ছে করোনার প্রকোপ, অন্যদিকে ধেয়ে আসছে বন্যা

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। করোনা সন্দেহে যারা টেস্ট করছেন, তার শতকরা ২০ ভাগের ফলাফল পজিটিভ আসছে৷ শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২১জন, যা নিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা এ পর্যন্ত ৯৩১ জন। সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

করোনার এই প্রকোপের মধ্যেও নতুন দুর্যোগ হয়ে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। কয়েকদিন যাবৎ লাগাতার বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমা নদীর পানি। ইতোমধ্যেই পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল।

ধারারগাঁওয়ে সড়কে ভাঙ্গন। ছবি: মোঃ মাঈনুদ্দিন, ফেসবুক থেকে নেয়া

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে পানি প্রবাহতা ৮.২৬ সেন্টিমিটার রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা বিপদ সীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ধেয়ে আসছে বন্যা। করোনার কারণে একদিকে ঘরবন্দী অবস্থায় জনজীবন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পানিবন্দী হতে হলে তা সার্বিক পরিস্থিতিতে আরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

শহরের কাজীর পয়েন্টে সড়কে পানি। ছবি: বাদল বর্মণ, ফেসবুক থেকে নেয়া


গত ২৪ ঘন্টায় শনিবার সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হচ্ছে ১৯০ মিলিমিটার। গত ৪৮ ঘন্টায় গত বৃষ্টিপাত ৩৪৩ মিলিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, যেভাবে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে একই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই সুনামগঞ্জে বন্যা লেগেই গেছে বলা যায়।

তিনি জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হলে ওই বৃষ্টির পানি সুরমা নদীতে এসে পড়ে। চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, চেরুপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে।

সুরমার পানি বিদপসীমার উপরে। তলিয়ে গেছে নদীর কিনারের অনেক জায়গা। ছবি: অভিজিৎ রায়, ফেসবুক থেকে নেয়া


সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, ১৫ মে পর্যন্ত হাওরের ফসলরক্ষার জন্য সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমা ছিল ৬ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার এবং ১৫ মে-এর পরে বিপদসীমা হল ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বর্ষাকালে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে ধরা হয়।

এদিকে, সীমান্তবর্তী উপজেলা তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারের গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। অনেক জায়গায় বন্ধ আছে সড়ক যোগাযোগ।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান, বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন, দক্ষিণ বড়ল ইউনিয়ন ও বালিজুরি ইউনিয়ন।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির জানান, ছাতকে সুরমা নদীর পানি ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, একই সঙ্গে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে প্রতিনিয়ত উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনার প্রকোপ। জেলার সবকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য যে সংখ্যক শয্যা রয়েছে, তার তিনভাগের দুইভাগেই ইতোমধ্যে রোগীরা চিকিৎসাধীন আছেন৷ পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। এ পর্যন্ত ৯৩১ জন আক্রান্ত হবার বিপরীতে সুস্থ হয়েছেন ৩২২ জন, মারা গেছেন ৫ জন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন জানান, করোনা আক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিজ নিজ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ও অন্যান্যদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আইসোলেশনে থাকা সকল করোনা রোগী মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে আছে। করোনা মোকাবেলায় সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাবার আহ্বান জানান তিনি।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আব্দুল আহাদ জানান, জেলা প্রশাসন থেকে বন্যার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এখনও ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ আছে, আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ও প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।


শেয়ার করুন