সুনামগঞ্জে ৪ হাজার হেক্টর আউশ ধান পানির নীচে

শেয়ার করুন

অব্যাহত পাহাড়ি ঢল ও টানাবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার পানিতে সুনামগঞ্জে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমির আউশ ধান নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৩ টায় সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সফর উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, যদি ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে জমি থেকে পানি নেমে যায় তাহলে নিমজ্জিত আউশ ধানের তেমন ক্ষতি হবে না।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সদর উপজেলায় ২ হাজার ৫ শ হেক্টর, দোয়ারাবাজারে ৭৫০ হেক্টর, তাহিরপুরে ৬০৫ হেক্টর, ছাতকে ২ শত হেক্টর, বিশ্বম্ভরপুরে ২৫ হেক্টর ও জামালগঞ্জে ২০ হেক্টর জমির আউশ ধান বন্যার পানির নীচে পড়ে আছে।

গত শুক্রবার (২৬) বিকেল ৩টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে ৪.৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিপদ সীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়।

রোববার (২৮ জুন) গত ৭ ঘন্টায় সুরামা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমলেও জনবসতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে বন্যার পানি। সকাল ৯টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮.৫০ সেন্টিমিটার রেকর্ড করেছে। যা গত ২৪ ঘন্টায় ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কিন্তু বিকেল ৩ টায় সুরমা নদীর একই পয়েন্টে ৮ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়। যা গত ৭ ঘন্টার ব্যবধানে সুরমা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় শনিবার সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হচ্ছে ২১৩ মিলিমিটার।

এদিকে, শহরের কাজির পয়েন্ট দিয়ে প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও শহরের বড়পাড়া, তেঘরিয়া, মধ্যবাজার, উকিলপাড়া, নবীনগরে বন্যার পাসি কিছুটা কমলেও শহরের অন্যান্য মহল্লায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৭২ মিলিমিটার।

তিনি জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হলে ওই বৃষ্টির পানি সুরমা নদীতে এসে পড়ে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান জানান, চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, ১৫ মে পর্যন্ত হাওরের ফসলরক্ষার জন্য সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমা ছিল ৬.৫০ সেন্টিমিটার এবং ১৫ মে-এর পরে বিপদ সীমা হল ৭.৮০ সেন্টিমিটার। ৭.৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বর্ষাকালে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে বলে ধরা হয়।


শেয়ার করুন