হ্রাস পাচ্ছে সুরমার পানির উচ্চতা

শেয়ার করুন

দিনে বৃষ্টিপাত থেমে আকাশে রোদের দেখা মেলার পর গত ১০ ঘণ্টায় খানিকটা হ্রাস পেয়েছে সুরমার পানির উচ্চতা৷ রোববার সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার রেকর্ড করেছে, যা বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর পানির উচ্চতা হ্রাস পেলেও শহরের অনেক এলাকা এখনো বন্যা কবলিত অবস্থায় আছে। নিচু এলাকাগুলোতে পানি বাড়ছে।

এর আগে সকাল ৯টায় সুরমা নদীর একই পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৮.৫০ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়। ওই সময়ে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সুরমার পানি ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রোববার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার।

এদিকে, শহরের কাজির পয়েন্ট, উকিলপাড়া, নবীনগর, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, মধ্যবাজারে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও শহরের অন্যান্য মহল্লায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা কমে গেলেও জলাবদ্ধতা হবার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের বাংলোর নীচতলায় নদীর পানি প্রবেশ করেছে। দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নজনের দেয়া অসংখ্য ছবিতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর অবস্থা ফুটে ওঠেছে। বহু ঘরবাড়ির ভেতর পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া শহরের রাস্তায় মানুষকে নৌকার মাধ্যমে চলাচল করতে দেখা যায়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৭২ মিলিমিটার। তিনি জানান, চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হলে ওই বৃষ্টির পানি সুরমা নদীতে এসে পড়ে। চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, ১ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাওরের ফসলরক্ষার জন্য সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ছিল ৬.৫০ সেন্টিমিটার এবং ১৫ মে-এর পরে বিপদ সীমা হল ৭.৮০ সেন্টিমিটার। ৭.৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বর্ষাকালে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে বলা ধরা হয়।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, জেলার ১১টি উপজেলায় ৪ শত ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪৮টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার ৮টি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পারিবারের সংখ্যা ৪৪ হাজার ১১০টি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার পরিবার, তাহিরপুরে ৩ হাজার, জামালগঞ্জে ৪শত, ছাতকে ১৯ হাজার ৩৯৬, দোয়ারাবাজারে ১১ হাজার, শাল্লায় ১৪টি, ধর্মপাশায় ২৫০টি ও জগন্নাথপুে ৫০টি পারিবার।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষে বন্যার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সকল প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক থাকতে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুন