০৭ জানুয়ারী ২০১৭, বাংলাদেশ সময় ১২:০৫ পিএম

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড ইস্যু দ্রুত মীমাংসা হোক

সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার, এডিটর-ইন-চার্জ, সুনামগঞ্জ মিরর

[img]

২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলার মানুষেরা নিশ্চয়ই আজও ভয়ে কেঁপে ওঠেন সেই ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডের কথা ভেবে। আজ সেই বিস্ফোরণের এক যুগ হতে যাচ্ছে। ভাবলে শিউরে উঠি, টেংরাটিলা গ্রামের মানুষ যখন চোখের সামনে ৩০০ ফুট উঁচু হয়ে আগুনের ওঠানামা দেখছিল, তখন সেই ভয়ার্ত পরিস্থিতি কেমন লাগছিল তাদের। অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে ভয়ানক গর্জন, ভূকম্পন। চোখ বন্ধ করলে মনে হয়, এটা যেন হলিউডের কোনো সিনেমার দৃশ্য! বাস্তবে টেংরাটিলাবাসী এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। একইবছর পরপর দু'বার গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরণ ঘটে সেখানে। বিস্ফোরণের পর গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান নাইকো সেখান থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে গেলেও গ্যাসের উদ্গীরণ আজও বন্ধ হয়নি। আশপাশের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, যা অপ্রতুল। এখনো প্রচুর পরিমাণে গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হচ্ছে। পুকুরের পানিতে, আশপাশের বাড়িঘরে ও নরম মাটিতে, টিউবওয়েলের লাইন দিয়েও গ্যাস বের হচ্ছে। গাছপালা মরে যাচ্ছে। ফসলী জমি বহু আগেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। কেউ কেউ এই উদ্গীরণ হওয়া গ্যাসকেও বিপদজনকভাবে ব্যবহার করছেন, ফলে যেকোনসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। টেংরাটিলার ভূ-গর্ভজুড়ে থাকা গ্যাস উদ্গীরণ হয়ে অপচয় হচ্ছে। ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের পর ভূ-গর্ভের এই বিপুল পরিমাণ গ্যাসকে আর উত্তোলন করা হয়নি। বুদবুদ আকারে বের হয়ে, বাতাসে মিশে এর অপচয় তো হচ্ছেই, চারপাশের পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। দেশে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের সংকট রয়েছে। গ্যাস ব্যবহারের বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গ্যাস কিছুদিন পর হয়ে যাবে সোনার হরিণ। নতুন লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ অনেকদিন ধরেই। সরকার ভাবছে, যানবাহনে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর জন্য তেলের দাম কমিয়ে দেবে। প্রতিদিনের চাহিদা প্রচুর পরিমাণ গ্যাস। অথচ একইসময়ে, দশবছরের বেশি সময় ধরে টেংরাটিলার গ্যাস অব্যবহৃত, যেটা অপচয় হচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। নাইকো'র মামলা ও এলাকাবাসীর ক্ষতিপূরণ পাবার ব্যাপারটি এখনো অমিমাংসিত। সরকারের পদস্থ ব্যক্তিরা টেংরাটিলা ঘুরে গেছেন কয়েকবার। কোনো সমাধান হবে কীনা, এখনো জানেনা সেখানকার মানুষ। টেংরাটিলা এলাকার পরিবেশ রক্ষা যেমন অতীব জরুরি, তেমনি এই ভূ-গর্ভস্থ গ্যাসকে জাতীয় গ্রিডে যোগ করাটাও খুবই প্রয়োজন। এক যুগ হবার পর, এই দাবি এখন আরো জোরালো হয়েছে। সবার আশা, দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে।

© সুনামগঞ্জমিরর ডটকম | সম্পাদক: সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার | নিউজরুম ইনচার্জ: আল-আমিন