১৫ মার্চ ২০১৭, বাংলাদেশ সময় ০২:৩৫ পিএম

৭১-এর বীরযোদ্ধা শামছু মিয়ার কিছু কথা

সাইফুলআলম ছদরুল, সুনামগঞ্জ মিরর

[img]

ভাবতে কষ্ঠ হয়, বলতে লজ্জা লাগে ৭১ এর পরাজিত শক্তিরা আজও আমাদের সম্মূখে মাখা উচু করে সমাজে ঘুরে বেরাচ্ছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা এখনও মাথাগুজার জায়গা কবতে পারি নাই। সমাজের সকলের কাছে বলতে চাই এখনও সময় আছে জেলার প্রতিটি উপজেলায় রাজাকারদের তালিকা তৈরি করে এদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ওরা নরপশু দেশ ও জাতির শত্রু আমদের সরলতা ও দূর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমাজের শিরা উপশিরায় প্রবেশ করছে। আমি মৃত্যুর আগে যদি সকল রাজাকাদের ফাঁসী দেখতে পারি তবে শান্তিতে মরতে পারব। ৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছু একান্ত আলাপকালে কথাগুলো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, তারিপুর উপজেলার বালিজুরী গ্রামের মৃত আব্দুর সাত্তার এর পুত্র শামছুল আলম ৭১ সালে স্বজনদের না জানিয়ে সহযোদ্ধা নুর মিয়ার সাথে বাড়ী থেকে পালিয়ে যুদ্ধে আংশ নিয়েছিলেন। বালাট প্রশিক্ষন সেন্টারে নাম লিখিয়ে ২৮দিন পশিক্ষন গ্রহন করে যুদ্ধের বিজয় মূহুর্ত পর্যন্ত বীরত্বের সহিত যুদ্ধ করেন। সহযোদ্ধাদের নাম জানন্তে চাইলে বলেন নুর মিয়া (বালীজুরি),আব্দুল আউয়াল আখঞ্জী(তরঙ্গ শ্রীপুর),আব্দুল কদ্দুস ,গোলাম রাব্বানী , সিরাজ মিয়া (নালের বন্দ) শামছু মিয়া, আব্দুল কদ্দুস (কাউকান্দি) ও আব্দুল মালিক তেরজালাল। আমাদের কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন হারুন রশিদ আব্দুল্লাহপুর সিলেট জানান। যুদ্ধের সময় বনে জঙ্গলে কাটিয়েছি কোন কোন সময় কবর স্থানে রাত্রি যাপন করতে হয়েছে ঘুম গোসল কি জিনিস ভাবার সময় ছিলনা। য়ুদ্ধের শেষ অপারেশন ছিল সিলেটের হরিপুর পাহাড়ে,ঘুম খাওয়া হারাম করে তিন দিন তিনরাত এক টানা যুদ্ধে আমরা পাকসেনাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করি। পাকসেনারা পালিয়ে গেলে গুপ্তচর পাটিয়ে খবর নেয়ার পর আমরা পাহাড়ের টিলায় গেলে হঠাৎ আমার পা শত্রুদের রাখা বোমার উপর পড়ে যায় , ভাগ্য ভাল চাপ লাগেনি নয়ত ঐদিন শেষ হয়ে যেতাম ওই দিনের কথা মনে পড়লে আজও গা শিউরে ওঠে বল্লেন শামছু ভাই। সহজ সরল শামছু ভাই বঙ্গবন্ধুর ভক্ত যাকে বলে অন্ধ ভক্ত পরিবার জীবনের কথা জানতে চাইলে, বলেন অমার একমাত্র মেয়ে দাখিল পরীক্ষা দিয়েছে ও স্ত্রী নিয়ে খুব অভাব অনটনে দিন কাটছে । বলার জায়গা নেই ১০/১২ বৎসর যাবৎ যাযাবরের মত সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া এলাকায় ভাড়া ঘরে থাকি । বয়সের কারনে কোন কাজ করতে পারিনা ভাতার টাকায় সংসার চলেনা। শুনেছিলাম সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেশনিং চালু হবে এরম কর্মসূচী চালু হলে খুবই ভাল হত। আমাদের কাজের যোগ্যতা নেই অসহায়ের সরকারী সহায়তা ছাড়া অন্য উপায় নেই। সরকারী ভাবে অমাদের পূনর্বাসন করলে অমরা ভ’মিহীন থেকে মাথা গুজার ঠাই পাব না হলে কচুরীপানার মত ভাসতেই থাকব ।

© সুনামগঞ্জমিরর ডটকম | সম্পাদক: সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার | নিউজরুম ইনচার্জ: আল-আমিন