২২ জুন ২০১৭, বাংলাদেশ সময় ০৬:০০ পিএম

ক্রেতা নেই ঈদ বাজারে

আল আমিন, সুনামগঞ্জ মিরর

[img]

রমজানের ২৬ দিন শেষ হতে চললেও সুনামগঞ্জে এখনো জমেনি ঈদের বাজার। কাপড়ের দোকোনগুলোতে নেই আশানুরুপ কেনাবেছা। ফলে হতাশ বিক্রেতারা। শেষ সময়ে শহরের বাইরের ক্রেতারা কেনাকাটায় আসেন। কিন্তু হাওর অঞ্চলের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় গ্রাঞ্চলের ক্রেতারা আসছেন না। অভিজাত বিপণিবিতানে উচ্চবিত্তদের ভিড় থাকলেও বাকিগুলো প্রায় ফাঁকা। ফলে ভাল ব্যবসার আশায় বেশি বিনিয়োগ করা ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। এছাড়া প্রবাসীরাও কম এসেছেন ফলে ঈদের বাজারে এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকসান গুনতে হবে তাদের। ঈদ মানেই আনন্দ। এই আনন্দের অন্যতম বড় একটি অনুষঙ্গ ঈদের নতুন পোশাক। কিন্তু এ বছর জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছিল। ৩ মার্চে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট অকাল বন্যায় তলিয়ে যায় হাওড়াঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ ফসল। শুধু সুনামগঞ্জেই তলিয়ে যায় প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমির ফসল। হাওরের ফসলহানির প্রভাব পড়েছে সুনামগঞ্জের ঈদ বাজারে। ফসল হারিয়ে হাওড় এলাকায় এখন চলছে হাহাকার। কৃষক পরিবারগুলোতে এই আষাঢ়েও চলছে চৈত্রের নিদান। ক্ষুদ্র কৃষকরা দুবেলা ভাতের ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। বন্যার সময় হাওড়ে প্রচুর মাছও মরে গেছে। হাঁসের খামারিরা ডিম বিক্রি করছেন লোকসান দিয়ে। এই পরিস্থিতির মধ্যে হাওড়ে কারো ঘরে ঈদ-আনন্দ নেই। অনেকের নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য থাকলেও আগ্রহ নেই। শহরের লন্ডন প্লাজা, দোজা মার্কেট, নেজা প্লাজা, হকার্স মার্কেট, সুরমা মাকের্টসহ কয়েকটি ফ্যাশন হাউস বৃহস্পতিবার বিকালে ঘুরে দেখা যায় ক্রেতা শূন্য এই চিত্র। যারা ঈদের পোশাক কিনছেন তাদের অধিকাংশই সরকারি চাকুরীজীবী। তবে তরুণীদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের পোশাক বাহুবলী, লেহেঙ্গা, রাখী, সারাড়া, স্কাট, ডিভাইডার, লংফ্রগ, ফ্লোটাস ইত্যাদি ডিজাইনের জামাগুলো। শহরের সুরমা মার্কেটে আসা ক্রেতা সাজিদুর রহমান সুনামগঞ্জ মিররকে বলেন, প্রতি বছর ঈদে ছোট ভাই -বোন বাবা মা’র জন্য জামা কাপর কিনতে হয়। কিন্তু এই বছর অকাল বন্যায় হাওরের ধান তলিয়ে নেওয়া আমাদের অভাব দেখা দিয়েছে। অভাবে তাকলে কী হবে ঈদত প্রতিদিন আসবেনা। ছোট ভাই বোনদেও আনন্দ দিতে কাপর ছোপর দিতেই হবে। দোজা মার্কেটে আসা ক্রেতা এনামুল হক সুনামগঞ্জ মিররকে বলেন, ঈদ বাজারে কাপরের অতিরিক্ত দাম। পসলহানির ফলে হাতে টাকাপয়সা বেশি নেই। আমি এসেছিলাম আমার ছেলের জন্য কিছু কেনা কাটা করতে। বেশি দামের ফলে কেনা কাটা করা যাচ্ছেনা। বিক্রেতারা জানান, আগে গ্রাম থেকে ক্রেতারা এসে শহরে ঈদের জন্য কেনাকাটা করতেন কিন্তু হাওরাঞ্চলের ফসলহানির ফলে গ্রামের ক্রেতারা আসছেন না। অন্যান্যবছর এমন সময়ে মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও এবার অনেকটাই ব্যতিক্রম। হাওরে এবারের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নতুন কাপড় কেনার মত অবস্থায় নেই। গত বছরের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগও বিক্রি হচ্ছে না। হাওরের এ জেলার ৯০ভাগ মানুষ বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল। ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঈদের বাজারে পড়েছে প্রভাব। টাকা না থাকায় ঈদের বাজার ক্রেতা শূন্য। ঈদের বাজারে এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকসান গুনতে হবে তাদের। সুরমা মার্কেটের বিসমিল্লাহ ফ্যাশন’র মালিক মোস্তফা সুনামগঞ্জ মিররকে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কালেকশন অনেক বেশী। কিন্তু দোকানে ক্রেতা শূন্য। এর কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আগাম বন্যায় হাওরাঞ্চলে বুরোফসল নষ্ট হওয়ায় এবারের ঈদ বাজারে ক্রেতা নেই। পাশাপাশি প্রবাসীরা এবার ঈদে দেশে আসেননি। ফলে ক্রেতাসঙ্কট দেখা দিয়েছে। পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খাঁন সুনামগঞ্জ মিররকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন শপিংকম্পেক্স গুলোতে পুলিশি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কেটগুলোতে সাদা পুশাকের পুলিশ রয়েছে। জাল টাকার চড়া চড়ি না হতে পারে সে ব্যাপারে ডিভি পুলিশ বাজারে কাজ করছে। ক্রেতারা যাতে নির্বিঘেœ বাষায় পৌছাতে পারে সে ব্যাপারে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ধান হারিয়ে নিঃস্ব কৃষক পরিবার বেঁচে থাকা যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে ঈদের নতুন পোশাক কিনা কল্পনাতীত হাওর পাড়ের কৃষক পরিবারের। মিরর/এসএ

© সুনামগঞ্জমিরর ডটকম | সম্পাদক: সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার | নিউজরুম ইনচার্জ: আল-আমিন