২৩ জুলাই ২০১৭, বাংলাদেশ সময় ০৩:১৯ পিএম

উচ্চমাধ্যমিকে পাশের হার ৬৮.৯১ শতাংশ

ন্যাশনাল ডেস্ক, সুনামগঞ্জ মিরর

[img]

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার সারাদেশে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। রোববার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানরা। সারা দেশে গড় পাসের হার ৬৮.৯১ শতাংশ এবং মোট জিপিএ -৫ পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭২৬ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৭.২০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮১৫ জন। কারিগরী শিক্ষা বোর্ডে ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬৯ জন। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৬৫.৪৪ শাতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৮৭ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৭১.৩০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৯৪ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭০.২৮ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯১ জন, সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০০জন। কুমিল্লা বোর্ডে ৪৯.৫২ এবং যশোর বোর্ডে পাসের হার ৭০.০২ শতাংশ। এরপর দুপুর ১টায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এবার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। আগের মত খাতা 'ওজন' করে নম্বর দেয়ার সুযোগ নেই। উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। www.educationboard.gov.bd ওয়েবসাইটে রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের EIIN এর মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ই-মেইলে কেন্দ্র/প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট শিটের সফটকপিও পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ফলের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। তবে কেবল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের হার্ডকপি সরবরাহ করা হবে না। চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ এপ্রিল। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ মে। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৬ মে শুরু হয়ে শেষ হয় ২৫ মে। আগামী ২৪ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার শেষের ৬০ দিন পূর্ণ হবে। এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। চলতি বছর এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে নয় লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৯৯ হাজার ৩২০ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম-এ ৯৬ হাজার ৯১৪ জন এবং ডিআইবিএসে চার হাজার ৬৬৯ জন পরীক্ষায় বসেন। গত বছরের তুলনায় ৩৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্র ৪৫টি বাড়লেও পরীক্ষার্থী কমেছে ৩৪ হাজার ৯৪২ জন। গত বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন। এবার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছয় লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন এবং ছাত্রী পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন। আট হাজার ৮৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুই হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এবার বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে ২৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ২০১২ সালে শুধু বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল বিষয়ে পরীক্ষা হলেও এবছর ২৬টি বিষয়ের ৫০টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এরমধ্যে এইচএসসিতে ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৮৮ দশমিক ১৯ শতাংশ ও কারিগরিতে পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৪-৩০ জুলাই: মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে ২৪ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। শুধুমাত্র টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল দিয়ে ফল যাচাই করার আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। ফিরতি এসএমএস এ আবেদন ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে মেসেজ অপশনে গিয়ে আরএসসি লিখে স্পেস দিয়ে ইয়েস (yes) লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের ফোন নম্বর লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। যেসব বিষয়ে দু’টি পত্র (বাংলা ও ইংরেজি) রয়েছে সেসব বিষয়ে একটি বিষয় কোড (বাংলার জন্য ১০১, ইংরেজির জন্য ১০৭) এর বিপরীতে দু’টি পত্রের জন্য আবেদন হিসেবে গণ্য হবে এবং আবেদন ফি হিসেবে ৩০০ টাকা লাগবে। একই এসএমএসের মাধ্যমে একাধিক বিষয়ের জন্য আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে কমা দিয়ে দিয়ে লিখতে হবে।

© সুনামগঞ্জমিরর ডটকম | সম্পাদক: সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার | নিউজরুম ইনচার্জ: আল-আমিন