১৭ আগস্ট ২০১৭, বাংলাদেশ সময় ১১:১৬ পিএম

দুই বন্ধুর মানবিকতায় ঘোড়ার প্রাণরক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ মিরর

[img]

অন্যান্যদিনের মত সেদিনও বিকেলে আব্দুজ জহুর সেতুতে বেড়াতে গেছিলেন দুই বন্ধু ইফতিয়াজ আলম পিয়াল ও নাকিব আহমেদ। তারা দু'জনই সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গতকাল বুধবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে  সেতু পেরিয়ে হঠাৎ তারা দেখলেন, রাস্তার একপাশে একটা ঘোড়া পরে আছে। প্রথমে দেখে অস্বাভাবিক কিছু মনে না হলেও তারা কাছে গিয়ে দেখতে পেলেন, আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছে ঘোড়াটি। খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারলেন, ঘোড়ার মালিক একে সেবা-শুশ্রূষা না করে ফেলে রেখে গেছেন। ঘোড়াটি দুই পায়ে আঘাত পেয়ে দাঁড়াতে পারছিলনা। ছিলনা কোনো খাবার। ফলে এটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। নিরীহ পশুটির প্রতি এমন অবহেলা ভীষণভাবে নাড়া দেয় পিয়াল ও নাকিবকে। পরে তারা ছুটে যান  প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে। যোগাযোগ করেন পশুচিকিৎসক ডা. একেএম জামানের সঙ্গে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন তিনিও। নাকিব ও পিয়ালকে সহযোগিতা করেন পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী নূরআলম। তারা সবাই মিলে খাবার ও ঔষধ দেন ঘোড়াটিকে। সেবা পেয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে ঘোড়াটি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটির মালিক কুতুবপুর গ্রামের ইসমাঈল। বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) ঘোড়ার মালিককে ঘোড়াটি হস্তান্তর করা হয়। তবে এটি সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দেখাশোনা করবেন পশুচিকিৎসক ডা. জামান, পিয়াল ও নাকিব। ইফতিয়াজ আলম পিয়াল সুনামগঞ্জ মিররকে বলেন, সেদিন বিকেলে আমরা ঘোড়াটিকে দীর্ঘক্ষণ নড়াচড়া না করে পরে থাকতে দেখি। কাছে গিয়ে যখন দেখলাম এটি আহত এবং কেউ দেখাশোনা করছেনা, তখন তা আমাদেরকে মানবিকভাবে নাড়া দেয়। ব্রিজে যারা আসাযাওয়া করছিলেন তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা এটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করি। ঘোড়াটি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠায় আমরা খুব আনন্দিত।

© সুনামগঞ্জমিরর ডটকম | সম্পাদক: সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার | নিউজরুম ইনচার্জ: আল-আমিন