Skip to content

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন হচ্ছে

আবারও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু। গেলবছরের তুলনায় এবার দেশের গ্রাম এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বেশি মারাত্মক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও সংক্রমণের হার বেড়েছে। বিগত কয়েকদিনের পরিসংখ্যানকে পেছনে ফেলে সুনামগঞ্জেও বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

বৈশ্বিক এই মহামারী প্রতিহত করতে বিশেষজ্ঞরা প্রথম থেকেই বলে আসছেন করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের টেস্টের পরিমাণ বাড়াতে হবে, জোর দিতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ আনুষাঙ্গিক বিষয়ে। তবে মফস্বল শহরগুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় মূলত বিভাগীয় শহরের উপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছিল করোনা নমুনা পরীক্ষার কাজ। এতে যেমন ফলাফল পেতে দেরি হয়, তেমনি কেন্দ্রের সংখ্যা কম হওয়ায় চাপও বেশি থাকে। এবার সুনামগঞ্জে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। সিলেট বিভাগে নগরীর বাইরে এটিই জেলা পর্যায়ের প্রথম ল্যাব। সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে একটি কক্ষকে ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

গেল সপ্তাহের বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) পিসিআর মেশিন বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যত দ্রুত সম্ভব ল্যাবটি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশেদ আলম।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সন্তান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন ও সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) ডা. আনিসুর রহমান এই পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পেছনে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। এছাড়া করোনা মোকাবেলায় হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক-কর্মীদের সর্বোচ্চ তৎপরতা নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ পারভেজ জাবীন জানান, আরটি-পিসিআর মেশিনটি স্থাপনে সহায়তা দিচ্ছে গ্লোবাল ফান্ড। এই মেশিনে একসঙ্গে ৩৪০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান ও প্রচেষ্টায় মেশিনটি বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দি গ্লোবাল ফান্ড (টিজিএফ) এর সহায়তায় সরকার ৮টি মেশিন সংগ্রহ করে, যার মধ্যে একটি সুনামগঞ্জের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এজন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) ডা. আনিসুর রহমান জানান, হাসপাতালের একটি বড় কক্ষে মেশিনটি স্থাপন করা হবে। এ জন্য কক্ষটিকে ল্যাব স্থাপনের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পিসিআর মেশিনটি পরিচালনার জন্য একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট, একজন বায়োকেমিস্ট ও দু’জন টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। জনবলের জন্য ইতোমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতদিন ধরে সিলেট বিভাগে স্থাপিত চারটি ল্যাবের মাধ্যমে করোনার নমুনার পরীক্ষা হচ্ছে। এরমধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত ল্যাবেই সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করা হতো। এছাড়া কিছু নগরীর কিছু হাসপাতালে ও অন্যান্য জেলা সদর হাসপাতালে এন্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। ল্যাব স্থাপন হলে সুনামগঞ্জেই করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি দ্রুত ফলাফল জানা যাবে।

এদিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বিনামূল্যের অক্সিজেন ব্যাংক চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। একসঙ্গে এই অক্সিজেন ব্যাংক থেকে ৬টি সিলিন্ডার রিফিল করা যাবে। এখানে আবুল খায়ের গ্রুপের নিয়োজিত একজন অপারেটর ও স্টাফ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন। রোববার (১৮ জুলাই) দুপুরে এ রিফিল স্টেশন উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ২০টি সিলিন্ডারও প্রদান করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ হয়েছে। সদরেও কিছুদিনের ভেতর বরাদ্দ হবে। সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এসএম এবাদুর রহমান এর মাধ্যমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আইসিইউ এবং অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মাণের ব্যাপারে একটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করাতে সক্ষম হই। প্রকল্পের আওতায় ইউনিসেফ অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং ১০ শয্যার আইসিইউ নির্মাণের জন্য কাজ করছে। হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নির্ধারিত স্থান সংস্কার চলছে। কাজ শেষ হলে হাই-ফ্লো অক্সিজেনসহ জরুরি অনেক সেবা পাওয়া যাবে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও তৎপরতার সাথে কাজ করছেন। ঢাকা থেকে ডা. জাবীনও পিসিআর ল্যাব স্থাপনে ভূমিকা রেখেছেন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৪ তারিখ ১১৪ জন করোনা সন্দেহে টেস্ট করিয়েছেন, যার মধ্যে ৪১ জনের ফলাফল ‘পজিটিভ’ এসেছে। গেল বছরের ১২ এপ্রিল রোববার সুনামগঞ্জ জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। দোয়ারাবাজার উপজেলার এক নারীর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত জেলার ৩৯০১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে মারা গেছেন ৪৩ জন।

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

x