Skip to content

সুনামগঞ্জে ঘরে ঘরে ‘সিজনাল’ জ্বর, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

সুনামগঞ্জ মিরর


হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জে দিন দিন বেড়েই চলছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। হাওরবেষ্টিত জেলা হওয়ায় জনসচেতনতা নেই বললেই চলে। যার ফলে নমুনা টেস্টসহ করোনার টিকায় নেই আগ্রহ।

বর্তমান সময়ে হাওরে পানিতে টুইটুম্বুর জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, শাল্লা, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, ছাতকসহ প্রতিটি উপজেলা। এদিকে ঘরে ঘরে জ্বরের সাথে সর্দি-কাশিসহ করোনার উপসর্গ। তবে এসব উপসর্গকে কেবল মৌসুমি জ্বর বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন হাওরাঞ্চলের বাসিন্দারা। এজন্য যে যার মত করে স্থানীয় ফার্মেসি থেকেই নিচ্ছেন সাধারণ ঠাণ্ডা-জ্বরের চিকিৎসা। ফলে নীরব ঘাতকের ভূমিকা নিয়েছে করোনা। স্বাস্থ্যবিধির বালাই না থাকা ও অধিকাংশ মানুষ হাসপাতাল বিমুখ হওয়ার ফলে জানা সম্ভব হচ্ছে না করোনার বাস্তব পরিস্থিতি আসলে কতটুকু ভয়াবহ। এতে ঝুঁকির মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই।

ফার্মেসি থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ, মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। ছবি: পীর জুবায়ের

বিশেজ্ঞদের মতে, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে করোনার সচেতনতা বৃদ্ধি করে নমুনা সংগ্রহ করা সহ টিকায় আগ্রহ বাড়াতে হবে। তা না হলে বড় ধরনের খেসারত গুনতে হতে পারে।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে পজিটিভের সংখ্যা শতকরা ৮৭ ভাগ। এছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন আরও ৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে ৪৭ জন। গত ১ জুন থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১০৭৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। 

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, টিকার জন্য অনলাইনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৯৪,২২৯ জন। তার মধ্যে ৬১,৭৯০ কোভ্যাক্সিনের এবং ১৮,৪৩৩ জনকে সিনোফার্মের টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। ২য় ডোজ হিসেবে ৪০,৭৪৯ জনকে কোভ্যাক্সিনের টিকা দেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (এমওসিএস) ডা. সজীব জানান, বুধবার (২৮ জুলাই) জেলায় আরও ৪০ হাজার টিকা আসার কথা রয়েছে।

তবে অনেক মানুষের মধ্যে করোনার আতঙ্ক থাকলেও জ্বরে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই করোনা পরীক্ষা ও হাসপাতালে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে। যারা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে, তারাও আবার করোনা পরীক্ষা করতে খুব একটা আগ্রহী নয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে দিন দিন ভিড় বাড়ছে জ্বর ও সর্দিকাশির রোগীর। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই শহরের আশেপাশের বাসিন্দা। তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা ৭-৮দিন  যাবৎ অসুস্থতায় ভুগছিলেন। প্রথমে সিজনাল জ্বর মনে করে ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নেয়ার পর কোন পরিবর্তন না দেখে হাসপাতালে এসেছেন করোনা টেস্ট করাতে।

যাদের বাড়ি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তারা কতটুকু সচেতন, এমন প্রশ্নে হাসপাতালে আসা সুমন মিয়ার বলেন, ৭-৮দিন যাবৎ তাদের পরিবারের সবাই জ্বরে আক্রান্ত। সিজনাল জ্বর মনে করে গ্রামে অবাধে ঘুরাফেরা করেছেন। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্যারাসিটামল কিনে খেয়েছেন। ভয়ে তারা হাসপাতালে আসেন নি। ডাক্তার যদি করোনা বলে তখন কোয়ারেন্টাইন করা হবে। কিন্তু শেষে উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসে নমুনা পরিক্ষায় দিয়েছেন। এখন তিনি ভয়ে আছেন করোনা রিপোর্ট যদি পজিটিভ আসে তাহলে যাদের সাথে ঘুরছেন তাদের কী হবে।

এদিকে, জেলার ১১ উপজেলায় করোনার প্রাদুর্ভাব থাকলেও আশঙ্কাজনক হারে সংক্রমিত হচ্ছে সদর উপজেলা। আর এই সংক্রমণের তালিকায় রয়েছে সাংবাদিক, ৬ চিকিৎসকসহ ৪ নার্সের নাম। আক্রান্ত ৬ চিকিৎসকের মধ্যে চারজনই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক। তাঁদের গত এক সপ্তাহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে এক নার্স ছাড়া অন্যরা বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাসপাতাল গুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে রোগী। তারা সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে সকল স্তরে সাবধানতা অবলম্বন না করলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে। এজন্য সিজনাল জ্বর কে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। জ্বর হলেই করোনার ঝুঁকি বেশী। জ্বরে শরীর দুর্বল হয়। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এজন্য সিজনাল জ্বরকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা দেড় বছর ধরেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশাবাদী মানুষের মধ্যে নমুনা টেস্ট এবং টিকা নেয়ার আগ্রহ বাড়বে।  করোনার এই ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কেনো বিকল্প নেই।

  • পীর জুবায়ের, সহকারী বার্তা সম্পাদক, সুনামগঞ্জ মিরর

সুনামগঞ্জমিরর/জুবায়ের/টিএম

x