‘বাঘের গর্জন’ শুনল অস্ট্রেলিয়া, ম্যাচসেরা নাসুম

ক্যারিয়ারের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেই ইতিহাসের পাতায় নাম তুললেন নাসুম আহমেদ। অস্ট্রেলিয়াবধের নায়ক হয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। অস্ট্রেলিয়া মানেই বাংলাদেশের জন্য ভীষণ কঠিন প্রতিপক্ষ। টেস্ট আর ওয়ানডেতে একটি করে মাত্র জয়। টি-টোয়েন্টিতে সেই এক জয়ও পায়নি কখনও। সেই অস্ট্রেলিয়াকে এবার ছোট ফরমেটেও হারের স্বাদ দিল টাইগাররা।

মিরপুরে মাত্র ১৩১ রানের পুঁজি নিয়ে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেল ১০৮ রানেই। টাইগাররা পেল ২৩ রানের জয়। এমন এক জয়ের নায়ক বাঁহাতি স্পিনার নাসুম।

চলতি বছরের মার্চে অভিষেক হওয়া এই স্পিনার আগের চার টি-টোয়েন্টিতে পেয়েছিলেন মাত্র ২ উইকেট। এবার এক ম্যাচেই ৪ উইকেট পকেটে পুরলেন নাসুম, ৪ ওভারে দিলেন মাত্র ১৯ রান। ক্যারিয়ারসেরা এই পারফরম্যান্স করলেন এমন এক ম্যাচে, যেটি কিনা উঠে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায়। এমন পারফরম্যান্সের পর আর কেইবা ম্যাচসেরা হবেন! ২৬ বছর বয়সী নাসুমের হাতেই উঠল অসিবধের পুরস্কারটি।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ধীর গতির ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩১ রান তুলে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের ৩৩ বলে ৩৬, নাঈম শেখের ২৯ বলে ৩০ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২০ বলে ২০ রানের ইনিংসের সুবাধে সেই রান তুলতে পেরেছে টাইগাররা। অজিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দিনে ছন্দে ছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। শেষদিকে ১৭ বলের মোকাবেলায় ২৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জশ হ্যাজলউড তিনটি, মিচেল স্টার্ক দুটি এবং অ্যাডাম জাম্পা ও অ্যান্ড্রু টাই একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম তিন ওভারে অ্যালেক্স ক্যারি, জশ ফিলিপ ও মইসেস হ্যানরিকসকে সাজঘরে ফেরান শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও সাকিব আল হাসান। ১১ রানে ৩ উইকেট হারালে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেই চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন মিচেল মার্শ।

আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডও। তবে ২৩ বল মোকাবেলা করেও ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি। নাসুম একে একে শিকার করেন মার্শ, ও ‘দুই অ্যাশটন’ অ্যাগার ও টার্নারকে। অ্যাগার অবশ্য হিট উইকেটের শিকার হন। ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৫ বলে ৪৫ রান করা মার্শ বিদায় নিলেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দলটি।

৮৪ রানের মধ্যেই অজিরা হারিয়ে ফেলে ৬টি উইকেট। এরপর দাপট দেখান পেসাররা। সপ্তম ও দশম উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজুর রহমান, অষ্টম ও নবম উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম। অজিরা ২০ ওভারে অলআউট হয় ১০৮ রানে।

নাসুম ৪ ওভার বল করে ৪ উইকেট শিকার করেন ১৯ রানের খরচায়। এর আগে ৪টি টি-টোয়েন্টি খেলে মাত্র ২টি উইকেট শিকার করেছিলেন সিলেটের এই বাঁহাতি স্পিনার। মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ১৩১/৭ (২০ ওভার)

সাকিব ৩৬, নাঈম ৩০, আফিফ ২৩, রিয়াদ ২০

হ্যাজলউড ২৪/৩, স্টার্ক ৩৩/২ জাম্পা ২৮/১

অস্ট্রেলিয়া : ১০৮/১০ (২০ ওভার)

মার্শ ৪৫, ওয়েড ১৩

নাসুম ১৯/৪, মুস্তাফিজ ১৬/২, শরিফুল ১৯/২

ফল : বাংলাদেশ ২৩ রানে জয়ী।

  • অনিক চৌধুরী তপু, সহসম্পাদক, সুনামগঞ্জ মিরর

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

x