আর্কএশিয়ায় প্রথম শাবিপ্রবি

বাংলাদেশের স্থাপত্যের শিক্ষার্থীদের জন্য গর্বের একটা দিন ছিল এ বছরের ৩ জুলাই। এই দিনে আর্কিটেক্টস রিজিওনাল কাউন্সিল এশিয়া (আর্কএশিয়া) আয়োজিত প্রতিযোগিতায় স্টুডেন্ট ট্র্যাকে প্রথম ও তৃতীয় পুরস্কার জিতে নেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ‘উঠানবাড়ি’ ও আহ্‌ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ‘কল্পতরু’ যথাক্রমে পেয়েছে প্রতিযোগিতার প্রথম ও তৃতীয় স্থান।

উঠানবাড়ি প্রকল্প দলের তিন সদস্য ফেরদৌস রহমান, ফাতেমা তুজ জোহরা ও আসিফা ওয়াসিমা। তিনজনই তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। প্রতিযোগিতায় ভিন্নধর্মী কিছু করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান। প্রকল্পের ভাবনা প্রসঙ্গে দলের সদস্যদের বক্তব্য, নিম্ন আয়ের মানুষদের আবাসনসম্পর্কিত সমস্যা ও কোভিড–পরবর্তী অনুন্নত বসবাস নিয়ে কীভাবে কাজ করা যায়, সেটাই আমরা ভাবছিলাম। তাঁদের বর্তমান আবাসের সঙ্গে ফেলে আসা গ্রামের সেই চিরাচরিত উঠানের সাদৃশ্য স্থাপন করাও আমাদের ভাবনার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তা থেকেই উঠানবাড়ি নামকরণ।

উঠানের চারপাশ ঘিরেই বাড়িটির সব কার্যক্রমের নকশা করা হয়। দুটো ভিন্ন ধরনের রুম মডিউল রাখা হয় এই প্রকল্পে।

এশিয়ার ২০টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম হওয়া দলের সদস্য ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর বাসস্থান সমস্যা নিরসনে আমাদের এই প্রকল্প যদি ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলেই আমাদের পরিশ্রম সফলতা পাবে। আসিফা ওয়াসিমার মতে, ‘শুরুটা হয়েছিল সাধারণ মানুষদের জন্য কাজ করার ইচ্ছা নিয়ে। সেই ইচ্ছা ও চেষ্টা চালিয়ে যাব সামনের দিনগুলোতেও।’ এর সঙ্গে ফেরদৌস রহমান যোগ করলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরের মানুষদের নিয়ে কাজ করে এই অর্জনের অনুভূতি আসলে অন্য রকম।

উঠানবাড়ি দলটি সনদের পাশাপাশি জিতে নিয়েছে ৮১৮ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

তৃতীয় স্থানজয়ী প্রকল্প ‘কল্পতরু’ দলের চার সদস্য হলেন নায়লা আলম, ফারহানা চৌধুরী, শাহরিয়ার কবির ও মো. তানভীর বাশার।

প্রতিযোগিতার শুরুতে মহামারি-পরবর্তী পৃথিবীতে ঘরবাড়িতে কেমন পরিবর্তন আনা সম্ভব, তা নিয়ে একের পর এক আলোচনা করছিল দলটি। সদস্যদের বক্তব্য, প্রথম থেকেই চিন্তা ছিল, নকশা যা-ই হোক না কেন, প্রকৃতি ও সবুজের কথা মাথায় রাখব। কারণ, বর্তমান মহামারি পরিস্থিতির পেছনে প্রকৃতির প্রতি অবিচারও অনেকাংশে দায়ী।

ঢাকা শহরের দূষিত পরিবেশের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তাই আমাদের চিন্তা ছিল, আমদের তৈরি করা বাড়ির নকশাটি একটি মডিউল হিসেবে কাজ করবে, যা ঢাকার যেকোনো বাড়ির ওপর প্রয়োগ করা যাবে। প্রতিটি বাড়ি হবে একটি কাল্পনিক গাছের মতো, প্রতিটি বাড়ি শ্বাস-প্রশ্বাস নেবে। মূলত এখান থেকেই নাম দিই কল্পতরু। সবুজ দেয়াল, ছাদবাগান ছাড়াও পানির ব্যবহার করা হয় এই প্রকল্পে।

তৃতীয় স্থানে থাকা কল্পতরু দল সনদের পাশাপাশি জিতে নিয়েছে ৩২৯ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আর্কএশিয়া প্রতিবছরই এশিয়ার ২১টি দেশে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।

সূত্র: প্রথম আলো/সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x