Skip to content

সিলেট মহানগরে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে

চা-বাগান আর উঁচু নিচু টিলা বেষ্টিত ওলী-আউলিয়ার শহর সিলেট। সবুজে ঘেরা এই আধ্যাত্মিক শহরের পানি প্রবাহের অন্যতম মাধ্যম টিলা থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন খাল-ছড়া। তবে দীর্ঘদিন থেকে নগরের ছোট-বড় খালগুলো দখল; দূষণে বিপর্যস্ত। কোথাও কোথাও খাল কিংবা ছড়া অস্তিত্বও হারাতে বসেছে। কখনও কখনও এগুলোর গতিপথও পরিবর্তন হচ্ছে।

বর্ষায় অল্প পানিতে নগরে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা, তৈরি হয় মারাত্মক জনদুর্ভোগ। আর এই দুর্ভোগ লাগবে এবার ‘অভিনব’ এক পদ্ধতিতে খাল-ছড়া উদ্ধারে নেমেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এতে করে নাগরিকদের জন্য সৃষ্টি হচ্ছে নিশ্বাস ফেলার একটু জায়গ!

সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ছোট-বড় ২৫টি ছড়া-খালের মধ্য ১২ টি ছড়া-খাল দখলমুক্ত করে ওয়াকওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজও শেষের পথে রয়েছে আর কয়েকটি ওয়াকওয়ে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ওয়াকয়ে নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি কাড়ছে নগরবাসীর।

বিশেষ করে চা বাগান বেষ্টিত গোয়াবাড়ি-করেরপাড়া এলাকায় কালীবাড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত ওয়াকওয়েটি বর্তমানে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে ওঠছে। অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার আগেই নাগরিক প্রশান্তির জায়গা হয়ে ওঠেছে এটি।

করোনাভাইরাসের দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থাকা নগরবাসী প্রতিদিন ভিড় করেন এই ওয়াকওয়েতে। সবুজে বেষ্টিত চা বাগানের টিলা ঘেঁষে নির্মিত ওয়াকওয়ে ঘুরে দেখতে যাচ্ছেন অনেকে। সকাল, বিকেল এমনকি রাতেও সময় কাটাতে সমবয়সীরা ভিড় করছেন। ছুটির দিনে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ওয়াকওয়েটি।

সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জবরদখলে থাকা ১২ ওয়াকওয়ের সঙ্গে ছড়া-খালের প্রতিরক্ষাদেয়াল নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন হাটার পথ পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সিসিকের। দখলমুক্ত অংশে প্রাথমিকভাবে নগরীর দর্শনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্থানে ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

চলমান এই প্রকল্পে টিলাগড় এলাকার হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন হলদিছড়ায় ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, একই ছড়ায় নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় এক কিলোমিটার, দাড়িয়াপাড়া এলাকায় মুগনিছড়ায় ৩০ মিটার, নগরীর উত্তর-পূর্ব দিকে শাহী ঈদগাহ, টিবি গেট ও এমসি কলেজ এলাকার গোয়ালীছড়ায় ৩৫ মিটার, গোয়াবাড়ি-করেরপাড়া এলাকায় কালীবাড়ি ছড়ায় দেড় কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।

আর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, আমরা সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে বলেছিলাম, কোনো ছড়াতেই বক্স কালভার্ট করা যাবে না। একই সঙ্গে ছড়ার তলদেশে ঢালাই করা যাবে না। তবে কিছু কিছু জায়গায় ঠিকাদাররা ছড়ার নিচও ঢালাই করে দিচ্ছেন এটাও ঠিক নয়। আমরা বলেছি ছড়ার ওপরের অংশ উন্মুক্ত রেখে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে। যাতে ছড়াগুলো সহজেই পরিস্কার করা যায়। এ কথার সঙ্গে মেয়রও একমত পোষণ করেছেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, ওয়াকওয়ে প্রকল্পটি সিলেট নগরীতে এই প্রথম বাস্তবায়ন হচ্ছে। নগরীর ১২টি ছড়া-খালে ওয়াকওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হাঁটার নতুন পথ পাওয়া যাবে। পথটি নাগরিক পরিসর হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ আসবে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই প্রকল্পের কাজ অনেক আগে শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এটিসহ অনেক প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে। তবে ওয়াকওয়ে আমাদের নতুন একটি প্রকল্প। তাই এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

x