Skip to content

আবারো জ্বলছে বৈরূত!

লেবাননের রাজধানী বৈরূতের সেই বিভীষিকাময় বন্দরে আবারো ঘটেছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা। গত বৃহস্পতিবারে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা নাগাদ ঘটে এই বিস্ফোরণের ঘটনা। বন্দরে মজুদ রাখা তেল ও টায়ারের স্টোর হাউজ থেকেই এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত। বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকা ভারি কালো ধোয়ায় ছেয়ে যায়। আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে ফের দানা বাঁধে আতঙ্ক। তবে এবারের বিস্ফোরণে কোন হতাহতের খবর এখন অবধি পাওয়া যায়নি।

ঘটনার ফলে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ভারি কালো ধোঁয়ার কারনে শ্বাসকষ্টে ভোগেন। ঘটনাস্হলের কিছু দূরেই দমকল বাহিনী গতমাসে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার ও উদ্ধারের কাজ করছিল। যার ফলে উক্ত বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে কার্যক্রম শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া অবধি, এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে দমকল ও সামরিক বাহিনীর কর্মীরা। এছাড়াও হেলিকপ্টার ও সাগর থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

এ ঘটিনায় স্থানীয় বাসিন্দা সহ সারা বৈরুত তথা লেবানন জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে৷ কয়েকজন সাধারণ জনগণ বৈরূতকে বসবাসের অনুপযোগী বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনার ফলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে এ ধরনের ঘটনা নিছক কোন দূর্ঘটনা নয়। তাদের দাবি এর পেছনে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা জনিত কারণ রয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এ দাবি নাকোচ করে দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালনে দূরদর্শিতার কথা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ঠা আগস্ট, লেবাননের রাজধানী বৈরূতের ঠিক একই বন্দরে ভয়াবহ ‘অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট’ ঘটিত বিস্ফোরণে প্রাণ হারান প্রায় দুইশতাধিক মানুষ। এছাড়াও সহস্রাধিক মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। গৃহহীন হয়ে পড়েন আরো প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। ওই ভয়াবহ ঘটনার প্রায় এক মাসের মাথায় এমন আরেকটা বিস্ফোরণ সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করেছে।

জনসাধারণের মতে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এমন দূর্ঘটনার কারণ বলে জানালেও দমকল বাহিনী ধারণা করছে বৈদ্যুতিক শক সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া অবধি দাপ্তরিকভাবে মুখ খুলছেনা উদ্ধারকারী বাহিনীর মুখপাত্র।

সুনামগঞ্জমিরর/এবি

x