চ্যাংবিল: সুনামগঞ্জের পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

করোনার এই সময়টুকুতে বাসায় বসে আমরা সবাই কমবেশি হাঁপিয়ে গেছি। এখন আস্তে আস্তে সংক্রমণ কমছে এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হচ্ছে। করোনার ধকল সামলে নতুন করে মনকে চাঙা করার জন্য অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন নয়নাভিরাম বিভিন্ন জায়গায়। আজকে আপনাদের এরকমই একটা জায়গার কথা বলবো।

টেলিভিশনে সুইজারল্যান্ডের ছবি আমরা প্রায় সবাই দেখেছি। সারি সারি গাছ, সবুজ কার্পেটের মতো ঘাসে ঢাকা রাস্তা, ছোট ছোট লেক। বাড়ির পাশে সুনামগঞ্জ জেলায় আছে এরকম একটা জায়গা। নাম ‘চ্যাংবিল’।
নাম শুনে মনে হতে পারে এটা কোনো বিলের নাম। আমরাও প্রথমে এমনটি ভেবেছিলাম। পরে দেখলাম পুরো গ্রামের নামই চ্যাংবিল। বলা বাহুল্য, পুরো গ্রামটাই ছবির মতো সুন্দর।

অবস্থান:
চ্যাংবিল গ্রামটি মেঘালয় পাহাড়ের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। উপজেলা হিসেব করলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় পড়বে। গ্রামটি আকারে ছোট হলেও সৌন্দর্যের জন্য সবার কাছে পরিচিতি পাচ্ছে। গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আপনি ভারতের সীমান্তবর্তী বিএসএফ ক্যাম্প, রাস্তায় গাড়ি চলাচল, পাহাড়ের গায়ে মিটিমিটি আলো জ্বলতে থাকা বাড়ি দেখতে পারবেন। ছোট্ট রাস্তার দু’পাশ দিয়ে কখনো সবুজ ধানের ক্ষেত, আবার কখনো টলটলে পানির বিল চোখে পড়বে।

যাতায়াত:
চ্যাংবিল গ্রামটি একটু প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ার যাতায়াতের খুব বেশি সু-ব্যবস্থা নেই। সুনামগঞ্জ শহর থেকে সরাসরি কোনো মোটরসাইকেল বা সিএনজি সেখানে যায় না। তাই গেলে রিজার্ভ করে নিয়ে যেতে হয়। মোটর সাইকেলে জনপ্রতি ভাড়া নেবে ১০০-১৫০ টাকা,  সিএনজিতে গেলে ৫০০টাকা নেবে রিজার্ভ। যেহেতু এখন সেখানে পর্যটকের আনাগোনা আছে, তাই ড্রাইভাররা বেশি ভাড়া চাইতে পারে। দরদাম করে যতটুকু পারা যায় কমিয়ে নিতে হবে। ড্রাইভাররা সকল পর্যটন এলাকা খুব ভালো করে চেনে, তাদেরকে বললেই সেখানে নিয়ে যাবে। এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, তারা খুব মিশুক প্রকৃতির মানুষ। পর্যটকদের স্বাগত জানান, সুন্দর জায়গাগুলো দেখিয়ে দেন, এমনকি বললে হাসিমুখে ছবিও তুলে দেন। তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করলে সেটা ফেরত পাবেন অবশ্যই।

সতর্কতা:
যেহেতু চ্যাংবিল একেবারে সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম, সুতরাং সাবধান থাকতে হবে যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম হয়ে না যায়। রাস্তা একটু খারাপ, তাই গাড়িতে সাবধানে বসতে হবে। এখনো খুব বেশি পর্যটক যান নি, তাই পরিবেশ খুব সুন্দর আছে। চিপসের প্যাকেট, পলিথিন, বোতল ইত্যাদি ফেলে জায়গাটা দূষিত করবেন না। ঐখানে এখনো ভালো হোটেল হয়নি, তাই নিজের জন্য হালকা খাবার দাবার নিয়ে যেতে পারেন।

করোনার এই ক্লান্তিকর সময়ের শেষে একটু মানসিক প্রশান্তির জন্য চ্যাংবিল খুব ভালো একটা জায়গা। বলতে পারেন, বাড়ির পাশের সুইজারল্যান্ড! দীর্ঘসময় ঘরবন্দি থাকার এই মানসিক ক্লান্তি এড়াতে তাই ঘুরে আসতে পারেন চ্যাংবিল। তবে, অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘর থেকে বের হবেন। নিরাপদে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  • মোঃ মুয়াজ্জাজুর রহমান মুয়াজ, বিভাগীয় সম্পাদক

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

শেয়ার করুন