বাউলসম্রাটের শাহ আবদুল করিমের প্রয়াণ দিবস

A. Karim portrait

বাউল গানের কিংবদন্তি শাহ আবদুল করিমের ১১তম প্রয়াণ দিবস আজ শনিবার (১২ সেটেম্বর)। ২০০৯ সালের আজকের এই দিনে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছিলেন। ভাটি বাংলার এ কীর্তিমানের প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা।

হাওরের রাজধানী খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার কালনী নদীতীরবর্তী উজান ধল গ্রামে বাউল শাহ আবদুল করিমের জন্ম হয়েছিল। ছোট্টোবেলা থেকেই তাঁর সংগীত সাধনার সাথে পথচলা এবং এরপর আমৃত্যু পর্যন্ত আমরা তাঁর কৃতকর্মের মাধ্যমে ঋদ্ধ হয়েছি৷

গানের মানুষ বাউল আবদুল করিম সারাজীবন তার গানের মাধ্যমে সহজিয়া বার্তা ছড়িয়ে গেছেন, প্রেমের কথা বলেছেন কিংবা প্রান্তিক জীবনের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। সংসার জীবনে উদাসীন মানুষটির জীবনও ছিল ভিন্ন রূপের, ভিন্ন আঙ্গিকের।

সুনামগঞ্জের জল-মাটি, হাওর-বাওর, নদী-নালা, বৃক্ষরাজী সর্বোপরি এখানকার ভূ-প্রকৃতি করিমকে বাউল হিসেবে তৈরী করেছে। তাঁর দীর্ঘ বাউল সাধনাই তাকে বাউল আবদুল করিম হিসেবে তৈরী করতে পথ বাতলে দিয়েছে। বিত্ত বৈভবের প্রতিও বিন্দুমাত্র আসক্তি ছিলো না তাঁর। মূলত গানই ছিলো তাঁর জীবন।

তাঁর গানে হাওরাঞ্চলের লোকজনের জীবনাচরণ, বঞ্চনা, আনন্দ, বেদনার সচিত্র প্রতিফলন স্পষ্ট অবলোকন করা যায়। তাঁর কালজয়ী গানগুলো দুই বাংলা ছাড়াও বিশ্বে সকল প্রান্তের বাংলা ভাষাভাষীর কাছে প্রাণের স্পন্দনের মতো।

করোনা ভাইরাসের কারণে এবছর বাউল সম্রাটের স্মরণে সুনামগঞ্জে তেমন কোনো আয়োজন নেই। স্মরণসভার আয়োজনও করা হয়নি। তার জন্মস্থান দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে সীমিত পরিসরে দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া জেলার ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউল সম্রাটের ভক্তরা এসে জড়ো হবেন তার মাজার প্রাঙ্গণে। সেখানে তারা নিজেদের মতো করে গুরুকে স্মরণ করবেন। রাতভর তার ধরে গাইবেন করিমের গাওয়া ও লেখা সব গান।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনয়িনের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আব্দুল করিম। আমৃত্যু তিনি উজানধল গ্রামেই ছিলেন। অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন-যাপন করতেন তিনি। ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে গানে-গানে অর্ধ শতাব্দিরও বেশি লড়াই করেছেন। এজন্য মৌলবাদীদের দ্বারা নানা লাঞ্ছনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান এ বাউল।

কীর্তিমান বাউল আবদুল করিম হয়তো আক্ষরিক অর্থে মৃত্যুবরণ করেছেন, তবে তাঁর কীর্তির মাধ্যমে তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে।

সুনামগঞ্জমিরর/এসপি

শেয়ার করুন