গড়ি পরিচ্ছন্ন দেশ

ছবি: প্রতীকী

আমাদের সবার স্বপ্ন একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেশের। দেশটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়াসে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন করা হয়। এই দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হল যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করা, ময়লা-আবর্জনার কারণে সৃষ্ট সমস্যাবলী মানুষকে জানানো। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা একটি অভ্যাস, এই অভ্যাসটি সবার মাঝে গড়ে তোলার তাগিদ সৃষ্টিতে কাজ করে পরিচ্ছন্নতা দিবস। এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কাজ করছে, যার মধ্যে বিডি ক্লিন একটি।

আধুনিক দেশগুলোয় কয়েকটি নগরীর পরিষ্কার শহর হিসেবে পরিচিতি আছে। যেখানে ময়লা, ধুলা, ধোঁয়া বলতে কিছু নেই, আছে নির্মল বাতাস। এই শহরগুলোর একটি ভারতের চণ্ডিগড়। আমাদের দেশকেও একটি পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির দ্বারাই এটি সম্ভব। দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার লোকজন পরিষ্কারের কাজ করে থাকে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ঢাকায় প্রতিদিন ৭ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সঠিক নিয়মে ডাম্পিং করা হয়, ২০ ভাগ সরকারি-বেসরকারি সংস্থা দ্বারা পুনঃচক্রায়ন করা হয়। অবশিষ্ট অংশ স্থানীয় জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনায় মশা-মাছি বাসা বাঁধে। জমে থাকা পানিতে মশা ডিম পাড়ে। ফলে চারপাশে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অনেক লোকের মৃত্যু হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারদিনে মোট চার হাজার ৬৯১টি বাড়ি পরিদর্শন করে তাদের টিম। এসব বাড়ির ১৮৬টিতে এডিস মশার জীবাণু পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসির পক্ষ থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ও ড্রেনে ওষুধ প্রয়োগের প্রোগ্রাম চলছে। শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে রোগ থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়, প্রয়োজন যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা।

আমাদের দেশে মানুষ রাস্তায় চলতে চলতে মুড়ি, বাদাম, বিস্কুট, চকলেট বা অন্য অনেক কিছুই খায়। খাওয়া শেষ হওয়ামাত্রই খাবারের অবশিষ্টাংশ বা খোলস বা প্যাকেটগুলো বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে রাস্তায় ফেলে দেয়। অনেককে দেখা যায় কোমল পানীয় বা পানি খাওয়া শেষে বোতল দিয়ে রাস্তায় ফুটবল খেলে এবং পরে তা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে চলে যায়। দেশের বড় বড় শহরে রাস্তার পাশে ডাস্টবিন দেখতে পাওয়া যায়, তবুও মানুষ তা ব্যবহার করে না।

এছাড়াও জানালা ব্যবহার করা আমাদের নিত্যদিনকার একটা বদ অভ্যাস। কোনো কিছু খেয়ে বাকি উচ্ছিষ্ট ফেলতে আমরা জানালা ব্যবহার করি। চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল, চকলেটের খোসাসহ অন্যান্য অনেককিছুই গাড়ির জানালা, বাড়ির জানালা দিয়ে ফেলে দিতে অভ্যস্ত। আসলে কি আমাদের এটা করা উচিত?

বাসার জানালা দিয়েও ময়লা ফেলা হয়, যা কাম্য নয়

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য কিছু ডাস্টবিন দেয়া আছে। মানুষ সেসব ডাস্টবিনের সঠিক ব্যবহার করে না। আবার অনেককে দেখা যায় বাড়ির ছাদ থেকে ময়লা ফেলতে। রাস্তার পাশে সেসব ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়, পরিবেশ দূষিত করে, পরিবেশের সুন্দর ভারসাম্য নষ্ট করে।

একজন মানুষের পক্ষে দেশকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। প্রয়োজন একাগ্রতা, ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগের। দেশকে পরিষ্কার করার লক্ষ্যে ছোট-বড় অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে থাকে। শুধু তাদের কাজে দেশ পরিষ্কার হবে না, প্রত্যেক নাগরিককে এ নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক মানুষ যদি তার নিজ নিজ জায়গা থেকে তাদের পাড়া-মহল্লা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, তবেই নতুন পরিচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য ও দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ডাস্টবিন ব্যবহার করার ব্যাপারে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিনিয়ত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে আসছে।

আমাদের কি দায়িত্বহীন অসচেতন নাগরিকের মত আচরণ করা উচিত? আসলেই কি উচিত যখন-তখন সেখানে-সেখানে যেটা-সেটা ফেলে আমাদের পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট করা? না একদম উচিত বা কাম্য নয়। আসুন আমরা আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করি। একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে একটি সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন মানসিকতার প্রয়োজন।
তাই বিডি ক্লিনের স্লোগানে সবাই একসাথে বলি,
“যত্রতত্র ময়লা
আর না, আর না”
গড়ে তুলি একটি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ।

  • সাদিকুল আলম, বার্তা সম্পাদক, সুনামগঞ্জ মিরর

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

শেয়ার করুন