মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন কিছুটা কমতির দিকে হলেও এখনও সেটা বিপদজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। লকডাউন শিথিল করায় সুনামগঞ্জের রাস্তাঘাটে এখন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বললেই চলে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক পড়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তবুও সাধারণ জনগণের একটা বড় অংশ সেটা মানছেন না। স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও সেটা তেমন ফল বয়ে আনতে পারে নি।

শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পথচারীদের বেশির ভাগই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। কেউ আবার মাস্ক খুলে পকেটে রেখে দিয়েছেন। ষোলঘর পয়েন্ট, বক পয়েন্ট, ট্রাফিক পয়েন্ট, উকিল পাড়া, রিভার ভিউ, কালীবাড়ী, নতুনপাড়ায় কিশোর এবং যুবকদের ছোট ছোট আড্ডা দেখা গেছে। তাঁদের অধিকাংশেরই মাস্ক পড়া ছিলো না। মাস্ক না পড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। মসজিদগুলোতে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ মসজিদে ইমাম এবং মুয়াজ্জিনরা মাস্ক ছাড়াই কাজ করছেন। মুসল্লিদেরকেও দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া।

জনগণের এই উদাসীনতা নিয়ে কথা হয় একজন স্বনামধন্য চিকিৎসকের সাথে। তিনি বলেন, “করোনার প্রতি জনগণের ভয় এখন অনেকটা কমে গেছে। সবার ধারণা, করোনা এখন আর আগের মতো শক্তিশালী নেই। তাই তারা স্বাস্থ্যবিধি মানতে তেমন আগ্রহী না। তাছাড়া, জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে বাইরে বের হতেই হয়। সাধারণ মানুষ সব সময় মাস্ক ব্যবহার করে বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভ্যস্ত নয়। তাই তারা এগুলোকে বোঝা মনে করছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখনও করোনা সংক্রমণের হার গড়ে প্রায় ১৫-২০%। সংক্রমণের হার ৫% বা তার কম হলে তখন মহামারী নিয়ন্ত্রনে এসেছে বলে গন্য করা হবে। যেহেতু করোনার কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা টিকা নেই, তাই একমাত্র সচেতনতাই পারে করোনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।

করোনা সংক্রমণের শুরুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সুনামগঞ্জকে করোনার হটস্পট হিসেবে ঘোষনা করেছিলো। জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে, পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছেন।

▪ মুয়াজ্জাজুর রহমান মুয়াজ

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

শেয়ার করুন