ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার জাতি, অনলাইনে তুমুল প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশে দিন দিন ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশ লকডাউন থাকলেও, পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক হবার পর যেন মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে নারী নির্যাতনের সংখ্যা। আর ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশে ধর্ষণের মতো ঘটনা নতুন নয়। ২০১৮ সালে নির্বাচনের পর নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সন্তানদের সামনে এক মধ্যবয়সী নারীকে ধর্ষণ করা হয়। সেটা দেশে বেশ আলোড়ন তৈরি করলেও, সময়ের সাথে মানুষ এ ব্যাপারটা ভুলে গিয়েছে। তাই অভিযুক্ত ধর্ষক জামিন পেয়ে বেরিয়ে গেছে এবং এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে গণমাধ্যমে। সর্বশেষ সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশে আবারো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ধর্ষণে অভিযুক্ত সবাইকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও, সবাই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকে।

এমসি কলেজের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আলোচনায় আসে নোয়াখালীতে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা। মধ্যযুগীয় এ বর্বরতা সারা দেশের মানুষকে হতবিহ্বল করে দিয়েছে। তাই এখন সবাই প্রতিবাদে মুখর।

করোনা পরিস্থিতির কারণে বাইরে সভা সমাবেশে বিধিনিষেধ থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে আন্দোলন। বিশেষ করে নারীরা এই আন্দোলনে জোরদার ভূমিকা রাখছেন। ‘ফিমেইল ব্ল্যাকআউট’ হ্যাশটাগে সবাই নিজের প্রোফাইল ছবি কালো করে দিচ্ছেন। সাথে থাকছে ধর্ষণবিরোধী নানা রকম ছবি, উক্তি এবং কবিতা। নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তাঁরা সরকারের শীর্ষমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জনমত তৈরির আধুনিকতম প্ল্যাটফর্ম। এখানে আন্দোলন কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, একমাত্র সময়ই তার উত্তর দেবে।

  • মুয়াজ্জাজুর রহমান

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

শেয়ার করুন