জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও জনসমাবেশ

জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে জনসমাবেশ

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে স্থাপনের দাবি জানিয়ে মানবন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ‘সর্বস্তরের সুনামগঞ্জবাসী’র ব্যানারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে তা হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জনসমাবেশে পরিণত হয়।

মানবন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সেটার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়টি জেলা সদরে স্থাপন করা হোক। এটি সুনামগঞ্জের গণমানুষের দাবি, একে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সমাজসেবকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি’র নির্বাচনী এলাকা শান্তিগঞ্জে স্থাপন করা হবে বলে কিছুদিন আগে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর মিসবাহ, সাংসদের বড়ভাই সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেকে দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে জেলা সদরে স্থাপন করতে হবে। এই দাবির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতিকে দেয়া এক ডিও লেটারে উল্ল্যেখ করেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয় বিল এর দফা ৩ এর উপদফা (১) এর প্রথম লাইনে উল্লিখিত ‘সুনামগঞ্জ জেলায়’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায়’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তবে এই আবেদন গৃহীত হয়নি জানিয়ে তিনি একটি ফেসবুক পোস্ট করেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান গত ২১ অক্টোবর প্রকাশিত তাঁর এক কলামে লিখেন, “প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মেডিকেল কলেজ পরিকল্পনামন্ত্রী তার শান্তিগঞ্জের বাড়ির কাছে নিয়ে গেছেন। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হলেও সেটিও তার বাড়ি ডুংরিয়ায় নিয়ে গেছেন। সংসদের বিগত অধিবেশনে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিল পাস হয়। পরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উভয় জেলা সদরে প্রতিষ্ঠার সংশোধনী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ চাঁদপুর ও হবিগঞ্জ জেলা সদরে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে সংসদের খবরে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারে সুনামগঞ্জবাসী আনন্দে উল্লসিত হয়ে ওঠে। ১৫ অক্টোবর এ বিলটি সংসদের স্থায়ী কমিটির সভায় উত্থাপিত হয়। সেখানে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের এমপি অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ জেলা সদর উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু পরিকল্পনামন্ত্রীর জোর সুপারিশের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় মন্ত্রীর বাড়ি শান্তিগঞ্জেই প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা সংসদের আগামী অধিবেশনে আসবে। প্রধানমন্ত্রী হাওরের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ থেকে যা দিচ্ছেন তাই এখন মন্ত্রীর শান্তিগঞ্জে চলে যাচ্ছে।”

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টির পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জেলা সদরে স্থাপিত হলে সদরের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। আবার অনেকে বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনামগঞ্জের, সুতরাং তা জেলার যেখানেই স্থাপন করা হোক না কেন একে সমর্থন জানানো উচিত। এছাড়া, জেলা শহরের সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে টেকসই পরিকল্পনার বিষয়গুলোও উঠে আসছে আলোচনায়।

এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’র স্থান নির্ধারণ নিয়ে সুনামগঞ্জবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এটিকে হাওরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার উল্লেখ করে বলেছেন, ’কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না। এখনো চূড়ান্ত কিছু হয় নি। প্রয়োজনে সবার মতামতের ভিত্তিতেই হবে।’

সুনামগঞ্জের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি বিশ্বমানের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেখতে চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমি বেঁচে থাকলে সুনামগঞ্জ অবহেলিত থাকবে না।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব দিকে একটি বাইপাস সড়ক হবে এমনটা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই সড়ক হলে শহর দক্ষিণ দিকে যেভাবে বাড়ছে পূর্বদিকেও বাড়বে। শহরকে বড় করতে কিছু দূরবর্তী এবং পুরো জেলাবাসীর সুবিধাজনক স্থানেই বড় বড় স্থাপনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করবে। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেও স্থান নির্ধারণ করতে হবে। সুনামগঞ্জ শহরে আমি বড় হয়েছি, সুনামগঞ্জকে বাদ দিয়ে বা সুনামগঞ্জ শহর থেকে কিছুই সরানোর কোন ইচ্ছা বা পরিকল্পনা আমার নেই। বরঞ্চ শহরটিকে বড় করতে চাই আমি। আপাতত শহর দক্ষিণ দিকে বাড়লেই সকলের সুবিধা হয়। এজন্য নতুন নতুন স্থাপনার জমি ওইদিকেই নির্বাচন করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

শেয়ার করুন