তাহিরপুরের দৃষ্টিনন্দন বাঁশ বাগান

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাঁশ বাগানের গ্রাম। উপজেলা পর্যটনস্পটগুলোর পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন সেই বাঁশ বাগানও দেখতে আসেন অনেক পর্যটক। এসে কেউ কেউ ছবি তুলেন, কেউবা আবার বাগানে বসে একটু শান্তির হাওয়া গায়ে মাখেন। তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নে শিমুল বাগান, বারেকটিলা ও যাদুকাটা নদীতে যাওয়ার পথে দু’পাশে দেখা যায় সারি সারি বাঁশ বাগান। সারিবদ্ধ বাঁশ বাগানের কারণে এই গ্রামটি বাঁশ বাগান নামেই পরিচিতি পাচ্ছে। আর এই ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামের প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতেই রয়েছে এই বাগান।

গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের প্রয়োজনে কিংবা শখের বসে আবার কেউবা বিক্রি করার জন্য বাড়ির চারপাশে বাঁশ রোপণ করেছেন। আর উর্বর মাটি থাকায় বাঁশ উৎপাদনও হচ্ছে বেশ। বাগান করতে খুব বেশি খরচ করতে হয় না। তাই অনেকেই আবার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বৃহত্তর পরিসরে বাঁশের চাষ করছেন। এখান কারো কারো উৎপাদিত বাঁশ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাইকারি দরে ক্রয় করে নিয়ে যান অনেক ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, উপজেলার মানিগাও, পুরানঘাট, শান­্তিপুর, মাহারাম, বারেক­টিলা, ঘাগটিয়া, মোল্লাপাড়া, জ­ামবাগ, গড়কাটি, মদুয়ারচর, ব্রাহ্মণগাঁওসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে বাঁশ উৎপাদন হয়। আর বড় বড় বাঁশ বাগান রয়েছে মানিগাঁওসহ উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। এখানকার উৎপাদিত বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরী করেন স্থানীয় শিল্পীরা।

মানিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম জানান, তিনি ১৫ শতাংশ জমিতে বাঁশের বাগান করেছেন। ভাল বাঁশ একশো থেকে আড়াইশো টাকা বাজারমূল্য পাওয়া যায়। এতে করে এক বছরে কমপক্ষে ৮-১০ হাজার টাকার বাঁশ বিক্রি করে তিনি বাড়তি আয় করেন। তবে বাশেঁর চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফজলুল হক বলেন, এখানকার মাটিতে বালুর পরিমান বেশি। তাই তিনি বাঁশের বাগান করেছেন। আর এই বাগান থেকে বছরে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন বলে জানান।

চাষী আব্দুল মজিদও তার জমিতে বাঁশের চাষ করেছেন। তিনি জানান, বাঁশ চাষ করতে বেশী সময় ও টাকা ব্যয় করতে হয় না। বাড়তি আয় হয়। বাঁশ বাগানে এখন অনেক পর্যটক আসতে শুরু করেছে। এসে কেউ ছবি তুলে, আবার অনেকেই শহরের কোলাহলের বাইরে এসে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

জানা যায়, গত দশ বছর পূর্বে বাঁশের চাহিদা ছিল ব্যাপক। কারণ তখন ঘরবাড়ি, গৃহস্থালিসহ বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হত। এখন আর আগের মত কাজে লাগে না প্লাস্টিক জাতীয় জিনিসপত্রের কারণে। তবে যাদুকাটা নদীতে শ্রমিকদের কাজ চললে উড়া, টুকরি বেশী বিক্রি করা যায়, না হলে বেচাঁকেনা কম। এছাড়াও বৈশাখের শুরুতে পাটি, কুলা, ধান রাখার ডোল, পাখা, মুখোশ ইত্যাদির চাহিদা বাড়ে।

বাঁশ বাগান দেখতে আসা পর্যটক আলমগীর জানান, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগানের পাশে ও আসার পথে বাঁশ বাগান দেখতে অনেক ভাল লেগেছে। নির্জন ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে এক অন্যরকম অনুভুতি হয়।

উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সমাজ সেবক ও যুবলীগের সভাপতি মাসুক জানান, উত্তর বড়দল ও বাদাঘাট ইউনিয়নেও বাঁশ উৎপাদন হয়, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বাঁশ গাছ আছে। এই বাঁশ বিক্রি করে বাড়তি আয় করছে পরিবারগুলো। আর অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে বৃহত্তর পরিসরে বাঁশ বাগান করে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলার অন্যান্য পর্যটনস্পট গুলোর পাশাপাশি দৃষ্টি নন্দন সেই বাঁশ বাগানও দেখতে আসেন অনেক পর্যটক।

যেভাবে যাবেন: শহরে শহর থেকে তাহিরপুরের বাদাঘাটে যাবার জন্য মোটরসাইকেলে জনপ্রতি ভাড়া একশ টাকা নেবে। সিএনজিতেও যেতে পারেন। ৫০০টাকায় রিজার্ভ করে নিয়ে গেলে চার-পাঁচজন অনায়াসেই যেতে পারবেন। সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মতো। মোটরসাইকেল আপনাকে বাদাঘাট বাজারে নামিয়ে দেবে। সেখান থেকে অটোরিকশা অথবা মোটরসাইকেলে উঠে সরাসরি চলে যেতে পারবেন উত্তর বড়দল ইউনিয়নে। গ্রামে বাঁশ বাগান চোখে পড়বে। কাছেই শিমুল বাগান, বারেকটিলা। মূলত শিমুল বাগান, যাদুকাটা, নীলাদ্রী ও বারেকটিলা দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হলেই আপনার জন্য বাড়তি একটি স্পট হিসেবে ভিন্নমাত্রা যোগাবে এই বাঁশ বাগান।

  • জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর

[প্রিয় পাঠক, সুনামগঞ্জ মিরর সুনামগঞ্জের পর্যটন খাত নিয়ে কাজ করতে চায়। জেলার আনাচে কানাচের দৃষ্টিনন্দন স্থানগুলোর গল্প এক এক করে তুলে আনবে সুনামগঞ্জ মিরর। এ যাত্রায় সঙ্গে থাকবেন। এছাড়া, পর্যটন বিষয়ক যেকোনো তথ্যের জন্যও সুনামগঞ্জ মিররের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন; সঙ্গে আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ ও মতামত জানাতে ভুলবেন না।]

শেয়ার করুন