সুনামগঞ্জের একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের গল্প

আফজাল হোসেন অন্তর একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওয়েবসাইট ফাইভারে তাঁর অবস্থান এখন লেভেল টু। সুনামগঞ্জ জেলায় তিনি গড়ে তুলেছেন অন্তর ওয়েব সলিউশন্স-আইটি ট্রেনিং সেন্টার।

অন্তরের বয়স এখন মাত্র ২৩ বছর। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানে তিনি ইন্টারনেশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় কম্পিউটার সাইন্সে ভর্তি হোন। তিনি এখন প্রথম বর্ষের ছাত্র। এখনই প্রতিমাসে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করছেন লাখের বেশি টাকা।

কীভাবে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হলেন— জানতে চাইলে অন্তর আহমেদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার আইটির দিকে আগ্রহ ছিল বেশি। মোবাইলের সেটিং জনিত কোনো সমস্যা হলেই গ্রামের মানুষ আমার কাছে নিয়ে আসতো, খুব অল্প সময়েই আমি সমাধান করে দিতে পারতাম। যার প্রতিফলন বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া এসে আইটি আছে এমন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া এবং কম্পিউটার সাইন্সে লেখা পড়া করা। কিন্তু কালক্রমে লেখাপড়ার পাশাপাশি সেই আগ্রহটাই যে আমাকে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার করে তুলবে তা কখনোই ভাবতে পারিনি।

তিনি জানান, প্রচুর শ্রম ধৈর্য আর ইচ্ছাশক্তির দ্বারাই ফ্রিল্যান্সার হয়েছেন তিনি। আর উৎসাহ দিয়েছেন বড় ভাই। প্রথমে মালয়েশিয়ার একজন ফ্রিল্যান্সার এর সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৭ সালে নিজের ফাইবার একাউন্ট খোলেন ontor-thepro নামে। ফাইবার সহ বিভিন্ন সাইটে অল্প অল্প কাজ করার পাশাপাশি নিজের স্কিল বাড়াতে থাকেন তিনি।

গত দু বছরে পেয়েছেন অনেক সাফল্য, এক এক করে তাই তো বর্তমানে ফাইভার একাউন্টে গিগ তৈরি হয়ে গেছে ৮ টি। যে গিগ গুলো একজন ফ্রিল্যান্সারের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং রয়েছে অনেক চাহিদা।

অন্তর আহমেদ বলেন, অনেক শ্রম এবং খুবই ধৈর্যের সাথে কাজ শিখেছেন তিনি । তিনি ওয়েব ডেভলপাপমেন্টের পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ জানেন।

বর্তমান সময়ে প্রতিটি জেলাতেই গড়ে উঠছে ফ্রিল্যান্সিং বেজড আইটি ফার্ম। করোনার জন্যে মার্চ মাসে দেশে এসে অন্তর ওয়েব সলিউশন্স নামে একটি ফার্ম গঠন করেন সুনামগঞ্জেরই কয়েকজন ফ্রিল্যান্সারকে সাথে নিয়ে।

তিনি বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি ফাইভারে সময় দেয়া অনেক সময় অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এই জন্যে সহযোগী হিসেবে তিনি কয়েকজন ফ্রিল্যান্সারকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাইছেন। সেই সময় তিনি গুরত্বপূর্ণ প্রজেক্টে মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন।

আড়াই লক্ষ টাকায় স্টুডেন্ট ভিসায় ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ায় যাত্রা করেন অন্তর আহমেদ। শুরুতে লেখাপড়ার খরচ আর বিশাল বাৎসরিক ফি ফ্যামিলি থেকে দিলেও তা যে পরিবারের জন্যে হিমশিম খেতে হয় তা ভালই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন তিনি।

তিনি জানান একই সাথে একই সময়ে গ্রামের ৪-৫ জন প্রবাসে এসেছি, মাস শেষে তারা সবাই বাড়িতে টাকা পাঠায় আর আমি বাড়ি থেকে আনি। বিষয়টি নিজের কাছেই খারাপ লাগতো। এখন আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি ভালো আয় করছি। এটা আমি দেশ বা বিদেশ যে কোনো জায়গায় থেকেই করতে পারছি।

নতুন ফ্রিল্যান্সার বা যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং করতে ইচ্ছুক তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ে  অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এবং ভবিষ্য তরুণ প্রজন্ম এই প্ল্যাটফর্মে আসা যতটা দেরিতে হবে আফসোসটাও ততো ভারীই হবে।

অন্তর বলেন, বাস্তবতা অনুভব করে নিজেকে সময়ের সাথে বদলাতেই হবে, নইলে সেই সময় আপনার নয়। ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট সময়কে নিজের করতে। তাই স্কিল বাড়াতে হবে। মেধা, শ্রম আর সময় দিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আয় হবে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা, কর্মসংস্থান হবে নিজের। শুধু নিজের না, হয়তো একদিন আপনিও পারবেন আপনার মতো হাজার জনের কর্মসংস্থান তৈরী করার সুযোগ সৃষ্টি করতে। ধৈর্য্য আর নিষ্ঠা এবং অধ্যাবসায়ের সাথে কাজে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়া যাবে।

  • আজমল সায়েম

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

শেয়ার করুন