তাহিরপুরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাবে যাদুকাটায় নির্মিতব্য সেতু

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর উপর ‘শাহ আরেফিন ও অদ্বৈত মহাপ্রভু সেতু’ চালু হলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

এদিকে নির্মাণ কাজের ধীরগতির ফলে অর্ধেক কাজ হওয়ার কারণে উপজেলাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুরুতে সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হলেও এখন একেবারেই নামমাত্র কাজ করছেন দায়িত্বশীলরা। আর কাজের গতি কমিয়ে দেয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই সরকারের সুনাম রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়ে দিয়ে উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের প্রতিফলন বাস্তবে ঘটাতে দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান স্থানীয়রা।

তাহিরপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাদুকাটা নদীতে ৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের নির্মিতব্য শাহ আরেফিন ও অদ্বৈত মহাপ্রভু সেতুটির নির্মাণ কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। ৩০ মাসের মধ্যেই এই ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ২০১৮ সালের মার্চ মাসে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হলেও অদ্যাবধি সেতুটির মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর ১৪টি পিলারের মধ্যে চারটির কাজ এখনও বাকি রয়েছে। ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ২৫টি। এছাড়াও ব্রিজের অন্যান্য কাজও চলমান রয়ে গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর উপর কোনো সেতু না থাকায় জেলার তাহিরপুর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ও মধ্যনগর থানার বাসিন্দাদের যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই চারটি থানায় বসবাসকারী লোকজনের বর্ষায় নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে বা মোটরসাইকেল ছাড়া যোগাযোগের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর থানার মানুষজন জেলা সদরে আসতে গিয়ে চরম দূর্ভোগের শিকার হন সড়কপথের ব্যবস্থা না থাকায়।

আরও জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন উত্তর-পূর্ব দিকে মহান সাধক শাহ্ আরেফিন (র.) এর আস্তানা, যাদুকাটা নদীর তীরে শ্রী শ্রী অদ্বৈত মহাপ্রভুর আশ্রম, পূণ্যতীর্থস্থান, শিমুল বাগান এবং উত্তর-দক্ষিণে ঐতিহাসিক লাউড় রাজ্যের রাজধানী হলহলিয়ার ধ্বংসাবশেষ, নীল জলরাশির শহীদ সিরাজ লেক, বারেকটিলা ও দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওর এবং তিনটি (বড়ছড়া, চারাগাওঁ, বাগলী) কয়লা স্থলবন্দর রয়েছে। এসব স্থানে প্রতিদিনেই হাজার হাজার পর্যটক আসেন। সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। বসবাসকারি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ পর্যটকদের আগমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।

বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক নিজাম উদ্দিন বলেন, এই সেতু নির্মাণের ফলে তাহিরপুর উপজেলা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যাদুকাটা নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতু এবং সড়ক নির্মাণ শেষ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ফলে তাহিরপুর উপজেলা পর্যটন সমৃদ্ধ উপজেলা হিসাবে আরও ব্যাপক ভাবে পরিচিতি পাবে।

তাহিরপুরের উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল কবির বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় জনদুর্ভোগ লাঘবে যাদুকাটা নদীতে নির্মাণাধীন এই সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলাকার ব্যাপক পরিবর্তন হবে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ হবে এবং তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে এ উপজেলার তিনটি শুল্ক বন্দর থেকে কয়লা, চুনাপাথর পরিবহন ও জেলার সাথে তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, কলমাকান্দা থানা ও নেত্রকোনা জেলাসহ ময়মনসিংহে যাত্রী ও মালবাহী যান চলাচল সহজ হবে। পাশাপাশি এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানসহ এলাকায় যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হবে।

  • জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর

সুনামগঞ্জমিরর/ডাব্লিউটি

শেয়ার করুন