নার্সারি করে স্বাবলম্বী জসিম

হাওরাঞ্চলের জেলা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ। জেলার বেশির ভাগ মানুষ বছরের ছয় মাস (শুষ্ক মৌসুম) এক ফসলী বোরো ধান উৎপাদন করে আর বাকি ছয় মাস (বর্ষাকাল) হাওরে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এসবের মধ্যে না গিয়ে অনেকেই আবার বেকার না থেকে নিজ উদ্যোগে নার্সারি, হাঁসের খামার, মাছের ফিশারি করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন জীবনযুদ্ধে। তাঁদেরই একজন সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন।

একসময় জীবিকার তাগিদে কখনও ঠেলাগাড়ি আবার কখনও যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলনের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। এতে করে জীবন চললেও একটা কিছু করার নেশা আর বাবার অনুপ্রেরনায় এলাকায় ২০০৭ সালে গড়ে তুলেছেন একটি ছোট নার্সারি। প্রথমে অল্প করে গাছের চারা উৎপাদন শুরু করেন। পরে অল্প অল্প গাছের চারা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এনে বিক্রি শুরু করে ভাল লাভ পাওয়ায় আগ্রহ আরো বেড়ে যায় তার। প্রাথমিকভাবে কোন প্রশিক্ষন না নিয়ে শুধু বাবার অনুপ্রেরনায় শুরু করার পর বর্তমানে বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের পাশে ৩৭ শতাংশ জায়গা প্রতি বছরে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে নার্সারি করে প্রায় ১৩ বছরের পরিশ্রমে আজ সাফল্যের দ্বারে এসেছেন তিনি।

এভাবেই নিজের জীবনের গল্পের শুরুর কথা বলছিলেন মোঃ জসিম উদ্দিন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মোল্লা পাড়া গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে। পরিবারে ৭ ভাই আর ২ বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। পরিবারের টাকা পয়সা বা জমি কিছুই ছিলো না। সংসারের অভাব-অনটনের কারনে লেখাপড়াও খুব একটা করা হয়নি। ছোটবেলা থেকেই প্ররিশ্রমের কাজ করতে হয়েছে। ২০০৭ সালে বিভিন্ন গাছের ৩ হাজার চারা দিয়ে নার্সারির পরিচর্যা ও বড় করার মাধ্যমে শুরুটা ক্ষুদ্র আকারে হলেও এখন তিনি সবার চাহিদা মেটাতে বগুড়া থেকে ছোট ছোট চারা এনে নিজের মত করে পরিচর্যা শেষে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করেন। তার এই নার্সারিতে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৭ বছর বয়সী আম, জাম, কাঠাল, লিচু, কমলাসহ বিভিন্ন ফুল-ফলের নানান জাতের ১৪ হাজার গাছের চারা রয়েছে।

তিনি বলেন, ছোট বেলায় দেখেছেন তাঁর বাবা ধন মিয়া কলা গাছের খোল দিয়ে চারকোণা বাক্সের মত তৈরী করে সেখানে মাটি ভরে গাছের বীজ রোপণ করতেন। এর থেকে কিছুদিনের মধ্যেই গাছের চারা উৎপাদন হতো। পরে তার বাবা সেসব স্থানীয় বাদাঘাট বাজারে ও বিভিন্ন জনের কাছে নিয়ে বিক্রি করতেন। এই থেকেই নার্সারি করার প্রতি তাঁর আকর্ষণ জন্মে; যার সাথে বাবা ধন মিয়ার দেয়া অকুন্ঠ অনুপ্রেরণা মিলেই আজ তাঁর এই অবস্থান।

ছবি: আশামনি নার্সারিতে আশামনির বাবা জসিম উদ্দিন।

বর্তমানে জসিম উদ্দিনের সে নার্সারির আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। নাম দিয়েছেন মেয়ের নামে- “আশামনি নার্সারি”। এই নার্সারি করে তিনি এখন স্বাবলম্বী। ১টি ছেলে আর ২টি মেয়ে নিয়ে ভালই চলছে তাঁর সংসার। তিনি আরো জানান, বর্তমান মৌসুমে বেচাকেনা কিছুটা কম হলেও বর্ষাকালে গাছের চারার চাহিদা থাকায় বেচাকেনা ভাল হয়। সেসময় দৈনিক ২ হাজার টাকার চারাও বিক্রি করতে পারেন। এই এলাকায় আগে এত নার্সারী ছিল না বলে অনেকেই তার পথ অনুসরণ করে বিভিন্ন জায়গায় নার্সারি গড়েছেন। আর জসিমের এই নার্সারিতে সানক্রেড-এলডিপি সহযোগিতা করেছে।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকতা হাসান উদ দৌলা জানান, আমরা সকল কৃষক ও নার্সারি যারা করছেন তাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করছি। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সবসময় তাঁদের খোঁজখবর রাখছেন।

  • জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর

সুনামগঞ্জমিরর/ডাব্লিউটি

শেয়ার করুন