একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সুচিকিৎসার জন্য বিনীত নিবেদন

১৯৭১ সালের বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধে ভোলাগঞ্জ ৫ নং সাব সেক্টরে লে. জেনারেল শওকত এঁর অধীনে দেশের হয়ে হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন রতীশ রঞ্জন বাদল। যুদ্ধের পর বস্তুগত প্রাপ্তির অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও নির্মোহ বাদল বলেছেন, ‘আমি কোন কিছু প্রাপ্তির জন্য যুদ্ধ করিনি। আমি দেশ ও মাটির জন্য বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধ করেছি।’ রণাঙ্গনের সেই সাহসী যোদ্ধা আজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে যুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন করে চোখের জল ফেলছেন।

১৯৭৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার কার্যকরী পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন রতীশ রঞ্জন বাদল। আজ সকালে তাঁর নতুনপাড়ায় বাসায় গিয়ে দেখি তিনি বিছানায় নীরব হয়ে শুয়ে আছেন। আমাকে দেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। শৈশবে তাঁর কোলেপিঠেই বড় হয়েছি। যুবক বয়সে অসীম সাহসী মানুষ ছিলেন এই বাদলদা।

পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পারলাম, পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের অভাব দেখা দিয়েছে তাঁর শরীরে। সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে সপ্তাহখানেক চিকিৎসা করিয়ে বর্তমানে বাসায় আছেন। আগামী শুক্রবার সিলেট মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে আবারও নিয়ে যাওয়া হবে তাঁকে।

কালক্ষেপণ না করে একজন মুক্তিযোদ্ধার সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে বিনীত নিবেদন করছি। রতীশ রঞ্জন বাদলের মত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কেবল মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মান না দিয়ে জীবদ্দশায় সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। এঁদের অনেকেই অর্থাভাবে কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছেন। অসুস্থ হলে সুচিকিৎসার অবস্থা ধুঁকছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ান।

  • অণীশ তালুকদার বাপ্পু

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

শেয়ার করুন