এক বছরে সুনামগঞ্জে উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ২৭ কোটি ডিম

দেশের সবচেয়ে বেশি হাঁসের ডিম উৎপাদন হয় হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জে। জেলায় বাৎসরিক উৎপাদিত ডিমের পরিমাণ ২৭ কোটি ৫৫ লাখ ১১ হাজার ১৮৬ টি। যেখানে জেলায় ডিমের চাহিদা ২৫ কোটি ৬৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭১২টি। বছরে ওই জেলায় উদ্বৃত্ত ডিমের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৮৮ লাখ ৪৭৪ হাজারেরও বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলায় সদর উপজেলায় ২৯৫টি, ছাতকে ৩২৩টি, দোয়ারাবাজারে ২৩৫টি, জামালগঞ্জে ২৮০টি, জগন্নাথপুরে ১৭৫টি, দিরাইয়ে ২৯৫টি, বিশ্বম্ভরপুরে ২৮১টি, তাহিরপুরে ১৫৫টি, ধর্মপাশায় ৩৫৮টি, শাল্লায় ১৫৮টি ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৩১৫টি সহ মোট ২ হাজার ৮৭০টি হাঁসের খামার রয়েছে।  এসব খামারে ও গৃহস্থ পরিবারে ২৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৪২ টি হাঁস রয়েছে। সারা বছরে জেলায় হাঁসের ডিম উৎপাদন হয় ২৭ কোটি ৫৫ লাখ ১১ হাজার ১৮৬ টি। জেলায় ডিমের  চাহিদা রয়েছে ২৫ কোটি ৬৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭১২টি। উদ্বৃত্ত থাকে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৪৭৪ হাজারেরও বেশি ডিম।

জেলায় উৎপাদিত ডিমের দাম প্রতিটি ডিম দশ টাকা দরে ডিমের দাম ২৭৫ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার ৮৬০ টাকা। চাহিদাকৃত ডিমের দাম ২৫৬ কোটি ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার ১২৭ টাকা। উদ্বৃত্ত ডিমের বাজার দর ১ কোটি ৮৮ লাখ ৪ হাজার ৭৪০ টাকা। 

স্থানীয় হাঁসের খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জানুয়ারি মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত হাঁসের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়ে। এসময় হাওরের জমিতে ফসল উৎপাদন করায় হাঁস চড়ে খেতে পারে না। খামারিরা নিজেদের উদ্যোগে হাঁসের খাদ্যের সংস্থান করলেও খোলা হাওরের বিলবাদলে হাঁস ঘুরে ঘুরে খাবার খেলে জলজ, মৎস্যসহ সব ধরনের প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ করতে পারে। এই সময় হাঁস এসব খাদ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে ডিম পাড়া বন্ধ করে দেয়।  অন্যদিকে, এপ্রিল মাস থেকে পুরো নভেম্বর মাস পর্যন্ত হাঁসের কোন ধরনের খাদ্য সংকট থাকে না। তাই প্রচুর পরিমাণে ডিম দেয়। 

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের রাজঘাট গ্রামের হাঁসের খামারি মুক্তার আলী জানান, ছোট ছোট জলমহাল সরকার ইজারা না দিলে এগুলোতে হাঁস চরে খেতে পারতো। ফলে প্রাকৃতিক উৎস থেকে হাঁসের সুষম খাবার পেতো। তখন ১২ মাসের মধ্যে টানা ১০ মাস হাঁস থেকে ডিম পাওয়া যেতো।  ফতেহপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের হাঁসের খামারি আব্দুল কাদির বলেন, সরকার ছোট ছোট জলমহাল ইজারা দিয়ে যে টাকা পায় হাঁস পালনের জন্য এগুলো উন্মুক্ত করে দিলে ডিমের উৎপাদন আরও বাড়ত, দেশের গরীব মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতো। 

দোয়ারাবাজার উপজেলা বাংলাবাজার ইউনিয়নের উস্তাঙ্গেরগাঁও গ্রামের খামারি হাফসা খাতুন বলেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁসের খামার করতে পারলে ভাগ্য বদলে দেয়া সম্ভব। ধান মাছ চাষের চেয়েও হাঁস পালনে লাভ বেশি। 

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সুনামগঞ্জের বিস্তৃর্ণ হাওর এলাকায় হাঁস পালনের জন্য বিপুল সম্ভাবনাময় স্থান। জেলায় অসংখ্য খালবিল হাওর জলাশয় রয়েছে। যেগুলোতে হাঁস পালন করা সম্ভব। সরকার যদি হাঁস পালনের জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে দেয় তাহলে এ জেলার মানুষ হাঁস পালন করে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবেন।

  • হিমাদ্রি শেখর ভদ্র

সুনামগঞ্জ মিরর/টিএম

শেয়ার করুন