‘সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবার যুক্ত থাকা উচিত’

২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকে সাথে নিয়ে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত দিরাইয়ের জগদলের ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। সরকারের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব ও জগদলের সন্তান মোঃ মিজানুর রহমান ছিলেন এই হাসপাতাল তৈরির কারিগর। তবে সেসময় এটি উদ্বোধন করা হলেও নানা কারণে চালু হয়নি স্বাস্থ্যসেবা।

প্রায় ৮ বছর পর আবার আগামীকাল ২০ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল হাসপাতালের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে আসছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

কিন্তু পরিকল্পনামন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দিরাই আওয়ামীলীগ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, পরিকল্পনামন্ত্রী বিএনপিপন্থী মিজানুর রহমানের অনুষ্ঠানে আসছেন বলে তারা ওই দিনের কর্মসূচি বর্জন করেছেন। তাদের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তা এবং দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগকে না জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী হাসপাতালের উদ্বোধন করতে আসছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আরেকপক্ষ পরিকল্পনামন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করেছে।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নে নির্মিত হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। এটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন। আমি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণে সেখানে যাচ্ছি। স্থানীয় সাংসদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা না করে সরকারের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবার সহযোগিতা ও যুক্ত থাকা উচিত।

এম এ মান্নান এমপি, পরিকল্পনামন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ছোবা মিয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সোহেল আহমদ, দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্বজিত রায়, সিরাজ দৌলা, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন রশিদ লাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফর রহমান এওর মিয়া, অভিরাম তালুকদার, জগদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ। অন্যদিকে দিরাই বাজারে আনন্দ মিছিল করেছে দিরাই উপজেলার আওয়ামী লীগের আরেক অংশ। বৃহস্পতিবার বিকালে দিরাই বাজার থেকে মিছিলটি বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে গিয়ে মিলিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোশাররফ মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়।

এর আগে গত মঙ্গলবারও (১৬ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রীর কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, মিজানুর রহমান মিজান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম-সচিব। জগদল গ্রামে উনার বাড়ি। তিনি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বিএনপির আমলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করেছেন। মন্ত্রী মহোদয় আসতে আমাদের কোনো বাধা নেই, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের না জানিয়ে বিএনপিপন্থীর দাওয়াতে তিনি দিরাই আসছেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগকেই বঞ্চিত করা হয়েছে।

তবে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই এলাকার প্রায় পুরোটাই হাওর। এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত করুণ। এখানে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তারা আশার মুখ দেখেছিলেন। কিন্তু সেটি দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা ছিল। এখন এটি চালু হচ্ছে জেনে তারা খুশি হয়েছেন।

একই গ্রামের বাসিন্দা লতিবুর রহমান ও রহমত মিয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, যে যাই বলুক আমরা চাই ২০ তারিখ পরিকল্পনামন্ত্রী হাসপাতালটি যেন চালু করে দেন। এই হাসপাতাল চালু হলে জগদল ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামের মানুষের পাশাপাশি দিরাই উপজেলার করিমপুর ও জগন্নাথপুর উপজেলার হলদিপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ সেবা পাবেন।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শামস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এখানে সেবা কার্যক্রম চালু হচ্ছে জেনে এলাকার মানুষও বেশ খুশি।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নে নির্মিত হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। এটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন। আমি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণে সেখানে যাচ্ছি। স্থানীয় সাংসদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা না করে সরকারের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবার সহযোগিতা ও যুক্ত থাকা উচিত।’

প্রসঙ্গত, জগদল ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ করে দিতেই ২০০৬ সালে জগদল গ্রামের বাজারের পাশে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন জগদল গ্রামের সন্তান ও কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। এরপর প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের জন্য জমি অধিগ্রহণ, পাঁচটি পাকা ভবন, পাম্প হাউস, গ্যারেজ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর এটির উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই-শাল্লা) তৎকালীন সাংসদ ও মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। কিন্তু এটি আর চালু হয়নি।

  • লিপসন আহমেদ

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম

শেয়ার করুন