তাহিরপুরে টেকসই ও প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের দাবি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের তাহিরপুর উপজেলায় গ্রামীণ অর্থনীতির অগ্রগতি ও পর্যটনশিল্পের কারণে দিন দিন পল্লী সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কগুলো যান চলাচলের সক্ষমতা হারাচ্ছে। এ অবস্থায় এলজিইডি সড়ককে প্রশস্ত ও টেকসই করা না হলে অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে কৃষকসহ সর্বস্থরের মানুষ।

জেলার ১১টি উপজেলার সাথে প্রতিটি উপজেলার ও ইউনিয়নের বর্তমান যান চলাচল, ক্রমবর্ধমান গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত সমাগম এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় ঐসব সড়কে যথাযথ মানে উন্নীত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কৃষি এবং কৃষিনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প আধুনিকায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশেষ করে পর্যটনশিল্প, হস্ত, বয়ন শিল্প ও খাদি শিল্পে উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। গ্রামীণ সড়কের উন্নতি হলে তা এ এলাকায় মৎস্য, ফুল, পাট, পান চাষ, পশুপালন, দুগ্ধ প্রকল্প, ইক্ষু চাষ এবং চা ও কাগজ শিল্প অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে। এছাড়াও সাম্প্রতিককালে কেউ কেউ ছোট শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছে। পাহাড়িদের জুম চাষও অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। তবে গ্রামীণ সড়কে আগে যেখানে কোনো গাড়ি চলাচল করতো না সেখানে এখন ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রাক্টর চলাচল করছে। এ কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। আবার রাস্তার প্রশস্ততা কম হওয়ায় যান চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। তাই গ্রামীণ সড়কের মানোন্নয়নের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৪ সালের গেজেট অনুযায়ী ১২ থেকে ১৮ ফুট প্রশস্ততায় উপজেলা সড়ক নির্মাণ করা হতো। নতুন প্রস্তাবে উপজেলা সড়ক সর্বোচ্চ ২৪ ফুট প্রশস্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউনিয়ন সড়ক ১০ ফুট বা ১২ ফুট প্রশস্ততায় নির্মাণ করা হত। বর্তমানে সারা দেশে ৩৬৮৭৬ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক এবং ৪১৭৮১ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক আছে। সরকারের আগের গেজেটে গ্রাম সড়ক কত ফুট হবে তা নির্ধারিত না থাকলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এখন থেকে গ্রাম সড়কের প্রশস্ততা হবে ১০ ফুট।

তাহিরপুর উপজেলার কৃষক খেলু মিয়াসহ অনেকেই বলেন, বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও কৃষি উদ্যোগ বাড়ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ার কারণে খুব একটা সুফল মিলছে না।

ব্যবসায়ী সাদেক আলী বলেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের এলজিইডির প্রতিটি সড়ক ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রাক্টর ও যাত্রীবাহী লেগুনা, লাইটএইসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো থাকেই, পাশাপাশি যানযট দেখা দেয়। সড়কগুলো গুরুত্বসহকারে মেরামত ও প্রশস্ত করা খুবই প্রয়োজন।

এলজিইডি’র তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির জানান, গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে কৃষি জমির দিকে খেয়াল রেখে নকশা করা হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদর্শনা মেনে মেরামত ও প্রশস্তকরণ কাজ চলমান আছে। আর প্রতিটি ইউনিয়নে এলজিইডির সড়কগুলোর কাজ চলমান থাকবে। এখন থেকে গ্রাম সড়কের প্রশস্ততা হবে ১০ ফুট।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক করুণ সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, গ্রামীণ মানুষরা যেভাবেই হোক নিজেদের কর্ম নিজেরাই জোগাড় করছে। কেউ কেউ ছোট শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছে। আবার কেউ কৃষিতে জোর দিয়েছে। এসব পণ্য শহরে আনার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া পথ নেই। আমার ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলার উন্নয়নের স্বার্থে এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলছি।

  • জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, তাহিরপুর
শেয়ার করুন