সিলেটে বেড়েছে করোনা শনাক্ত, ভিড় বাড়ছে হাসপাতালেও

সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ১৫ দিন থেকে করোনায় শনাক্ত, মৃত্যু বাড়ছে। কমেছে সুস্থতার হারও। এদিকে করোনার উর্ধ্বগতির সাথে সাথে কোভিড হাসপাতালগুলোতেও ভিড় বাড়ছে। এমন অবস্থায় রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।

চিকিৎসকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কম ছিল। তবে গত তিনচার সপ্তাহ থেকে ফের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন। কোনো কোনো হাসপাতালে নেই বেডও। এমন অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার শনাক্ত হয়েছিল ১০০ জন। আর সব মিলিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬০৭ জন।

একদিকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে গত কয়েকদিন থেকে হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীদের ভিড়। এরমধ্যে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য যে বেড-কেবিন বরাদ্দ রাখা হয়েছিল তার সবগুলোইতেই বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারি জেনারেল ম্যানাজার রাশেদুল ইসলাম।

একই অবস্থা অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও। নর্থ ইস্ট হাসপাতালে বেড-আইসিইউ মিলিয়ে বর্তমানে ১৩ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের প্রায় ২২ টি বেডের মধ্যে তিন সপ্তাহ আগেও বেশির ভাগ বেড খালি থাকলেও বর্তমানে রোগীদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুন।

আর শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে তো রোগীদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুন। ১০০ শয্যা হাসপাতালটিতে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে যেখানে ২৫/৩০ রোগী ভর্তি ছিলেন। সেখানে বর্তমানে ভর্তি আছে ৮৩ জন রোগী। এরমধ্যে ৮২ টি সাধারণ বেড এর মধ্যে ৭২ টিতেই আছেন রোগী। অন্যদিকে ১৬ আইসিইউ বেডের ১১ টিতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

একই অবস্থা ৩১ শয্যার খাদিম হাসপাতালেও। এখানেও প্রতিদিন রোগীর ভিড় বাড়ছে। বর্তমানে ৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছে হাসপাতালটিতে। হাসপাতালটির আরএমও ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, এখানে আইসিইউ না থাকায় আমরা সব ধরণের রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারছিনা। যাদের আইসিইউ প্রয়োজন তাদেরকে চিকিৎসার জন্য এখানে না রেখে যাদের আইসিইউ প্রয়োজন নেই তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগেও এখানে একজনও রোগী ছিল না। তবে এখন প্রতিদিন এখানে রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। আগের তুলনায় কয়েকগুন বেড়েছে রোগীর সংখ্যা।

আর শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও ডা. সুশান্ত মহাপাত্র জানান, গত তিন-চার সপ্তাহ থেকে হাসপাতালে রোগী বেড়েছে। আমাদের হাসপাতাল ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও নানা কারণে সব বেড-এ রোগী ভর্তি করা যায় না।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ বেড-এ রোগী আছেন। একই অবস্থা বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও।

তিনি আরও বলেন, আমাদের খাদিম ও দক্ষিণ সুরমায় কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র হলেও এখানে নানা সীমাবদ্ধতা আছে। এরমধ্যে আইসিইউ না থাকায় সব ধরণের রোগীদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও আমরা চেষ্টা করছি। বিভাগের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। এসব হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

শেয়ার করুন