মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও উদ্বিগ্ন প্রণয়

সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও উদ্বিগ্ন প্রণয় ও তার পরিবার।

এবারের মেডিকেল কলেজে ভর্তির ফলাফলে মেধাতালিকায় ৪৩৬তম স্থান অধিকার করেছেন প্রণয় বর্মণ। তিনি ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। কিন্তু আর্থিক কারণে তার ভর্তি নিয়ে শঙ্কা কাটছে না তার পরিবারের।

জীবনসংগ্রাম করে এ পর্যন্ত আসা প্রণয় বর্মণের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মধ্য তাহিরপুর গ্রামে। বাবা নারায়ণ বর্মণ পেশায় জেলে। হাওরে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরেন। মা মণি বর্মণ এলাকায় পাথর ভাঙার কলে শ্রমিকের কাজ করেন। এই দম্পতির দুই ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে প্রণয় বর্মণ দ্বিতীয়। তিন বছর আগে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট ছেলের বয়স ১২। তাহিরপুর গ্রামে একটি খুপরিঘরে চারজনের পরিবারটির বসবাস।

জানা যায়, লেখাপড়ার খরচ জোগাতে একসময় প্রণয় বর্মণকে পাথর ভাঙার কলে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। তখন ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে ছুটতে হতো নদীতে। দিনভর বালু টানার কাজ শেষে সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ফিরতেন বাড়িতে। কিন্তু দিনের ঘাম জড়ানো সেই ক্লান্তি পেছনে রেখে বই নিয়ে পড়তে বসতেন তিনি। অভাবের সংসারে খেয়ে না খেয়ে দিন গেছে। তাঁর সেই শ্রম, ঘাম জড়ানো কষ্ট সফল হয়েছে।

প্রণয় বর্মণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁর পড়াশোনার পেছনে মায়ের অবদান ও কষ্ট বেশি। এসএসসিতে ভালো ফল করার পর তিনিই উৎসাহ দেন ভালো কলেজে ভর্তি হতে। এরপর প্রতিবেশীসহ নানাজনের সহযোগিতায় তিনি ভর্তি হন সিলেট সরকারি কলেজে। সেখানে অন্যদের সঙ্গে একটি মেসবাড়িতে থেকে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। এখন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে পরিবারের সবাই খুশি।
প্রণয় বর্মণ বলেন, এমনিতেই বাবা এখন বেকার। মা সারা দিন খেটে যা পান, তা দিয়েই কোনোরকমে টেনেটুনে সংসার চলে। এখন আমি কীভাবে ঢাকায় যাব, ভর্তি হব, কোথায় থাকব, লেখাপড়ার খরচই কীভাবে আসবে? এসব নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। মা-বাবাও যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় আছেন, সেটি তাঁদের মুখের দিকে তাকালে বুঝতে পারি।

প্রণয়ের ইচ্ছা, লেখাপড়া করে চিকিৎসক হয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবেন। ‘গরিবের ডাক্তার’ হতে চান তিনি। প্রণয়কে সাহায্য করার জন্য নানাজন হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এলাকাবাসীর বিশ্বাস সহযোগিতা পেলে প্রণয় ভবিষ্যতে আরোও ভাল কিছু করে দেখাতে পারবে। প্রণয়ের মত যোদ্ধাদের সুনামগঞ্জ মিরর স্যালুট জানায়, রইল শুভ কামনা।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএন

শেয়ার করুন