ধর্মপাশায় ভাইস চেয়ারম্যানের নির্দেশে সাংবাদিককে হাতুড়িপেটা

মাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আতকাপাড়া খেয়াঘাট এলাকায় আজ রোববার (২৫ এপ্রিল) সকালে সাদ্দাম হোসেন (২৯) নামের এক সাংবাদিককে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনের নির্দেশে হাতুড়িপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই সাংবাদিককে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি উপজেলার আতকাপাড়া গ্রামে। তিনি ভোরের দর্পন পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি। হাতুড়িপেটার ঘটনায় আহত ওই সাংবাদিক বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সাংবাদিক সাদ্দাম ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আতকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনের সম্পর্কে ফুফাতো ভাই হলেন সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন। ওই গ্রামে হজরত মজনু শাহ নূরী ওরফে ন্যাংটা বাবার একটি মাজার রয়েছে। ওই মাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন সাদ্দাম ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

গত শুক্রবার আতকাপাড়া মাজার জামে মসজিদে ইফতারি বন্টন করা নিয়ে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানের আপন চাচাতো ভাই ওয়াসিম মিয়ার (৩৮) কথা–কাটাকাটি হয়। আজ সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ছোট ভাই সুরে আলমের নেতৃত্বে ২–৩ জন ব্যক্তি হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সাংবাদিক সাদ্দামকে মারধর করে। পরে ওই সাংবাদিকের স্বজনেরা তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘গত ২৪ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত আতকাপাড়া ন্যাংটা বাবার মাজারে ওরস অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ও তাঁর ভাই সুরে আলাম মিলে বাণিজ্য মেলার নামে জুয়া ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওরস অনুষ্ঠিত হয়নি। কয়েক দিন ধরে ভাইস চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন আমাকে মারধর করবে বলে রাস্তাঘাটে হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য গতকাল শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিল্লাল হোসেনের নির্দেশে আমাকে হাতুড়িপেটা ও কিলঘুষি মেরে আহত করা হয়েছে।’

সাদ্দাম হোসেনের বাবা আবদুল বারেক বলেন, ‘আমার ছেলে খুবই সহজ–সরল। তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কিলঘুষি মেরে আহত করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুবিচার চাই। এ নিয়ে থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।’
বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘সাদ্দাম হোসেন আমার ফুফাতো ভাই। মাজারকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তাঁর নানাবিদ কার্যক্রমে ও ব্যবহারে এলাকার মানুষজন ওর প্রতি চরম অসন্তুষ্ঠ। কিছুদিন ধরে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। হাতুড়িপেটার কোনো ঘটনা ঘটেনি। শুনেছি, আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ওর কিলঘুষি হয়েছে। বিষয়টি আমি মিটমাট করে দেব।’

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ চৌধুরী আজ বিকেল চারটার দিকে মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • সূত্র- প্রথম আলো

সুনামগঞ্জমিরর/এসপি

শেয়ার করুন