৪৩টি মডেল মসজিদ হচ্ছে সিলেট বিভাগে

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ৪৩টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে সরকার। দেশের ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নির্মিত মসজিদটিও ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারের পাশাপাশি সন্ত্রাস, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে সরকার সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্স লাগোয়া ৪০ শতক জায়গার ওপর তিনতলা বিশিষ্ট এই মসজিদের আয়তন ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪ বর্গমিটার।

উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি মসজিদে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৪১ লাখ এবং জেলা পর্যায়ে মসজিদ নির্মাণ ব্যয় ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সিলেট বিভাগে ৪৩টি মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হবে ৫৮৫ কোটি ৭৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে গণপূর্ত অধিদফতর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেটের পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রসারে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মডেল মসজিদ কমপ্লে­ক্স নির্মাণ করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে প্রথমধাপে যেসব মসজিদ নির্মাণ হলো সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মসজিদ একটি।’

সিলেট বিভাগের ৪৩ মডেল মসজিদের মধ্যে সিলেট জেলায় হচ্ছে ১৪টি। ১৩ উপজেলায় ১৩টি এবং জেলা সদরে একটি। সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলাসহ ১২টি, হবিগঞ্জ জেলায় ৮ উপজেলাসহ ৯টি এবং মৌলভীবাজার জেলায় ৭ উপজেলাসহ ৮টি মসজিদ নির্মাণ হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুবিশাল এসব মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক ভবনে নারী ও পুরুষের আলাদা ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা থাকবে। থাকবে লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, কোরআন হিফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন।

এছাড়া মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র থাকবে। ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং সুবিধাও রাখা হয়েছে মডেল মসজিদে।

জানা গেছে, জেলা সদর ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্মাণাধীন মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ১২০০ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকার মডেল মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ৯০০ মানুষের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।

মসজিদ নির্মাণের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এসব মসজিদ পরিচালিত হবে। মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম সবাই সরকারি বেতনভুক্ত হবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন শেখ হাসিনা। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প নেয়া হয়।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

শেয়ার করুন