অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম করোনায় মারা গেছেন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মোঃ শফিকুল আলম। ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন।

শনিবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শফিকুল আলমের ছোট ছেলে শাহরিয়ার আলম রাহী।

অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র জেলা সংগঠন সুনামগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন (সুপা)’রও সভাপতি ছিলেন। এর আগে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

গত ২ জুলাই অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সকলের করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ে। এসময় বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তারা। তবে অবস্থার অবনতি ঘটলে শফিকুল আলমকে সিলেট উইম্যান্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় তাঁর ফুসফুসে ৭০ ভাগ সংক্রমণ ধরা পড়ে।

প্রায় ১১ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখার পর অবস্থার উন্নতি ঘটলে গত রোববার (১১ জুলাই) তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে আবারও জটিলতা দেখা দিলে পুনরায় আইসিইউতে নেয়া হয় তাঁকে। সেখান থেকে আর ফেরেন নি তিনি।

১৯৫৭ সালের ২৬ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলইতলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ শফিকুল আলম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ও ধানমন্ডি ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জনের পর ১৯৮৮ সালে আইন পেশায় যোগদান করেন। আজীবন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের আস্থাভাজন ও বিশ্বস্তজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আইনপেশা ও রাজনীতির পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি করতেন তিনি। ২০২০ সালের নভেম্বরে চৈতন্য প্রকাশনী থেকে তাঁর কবিতার বই ‘মাটির মায়া’ প্রকাশ হয়।

সুনামগঞ্জমিরর/টিএম