Skip to content

হাওরাঞ্চলে পর্যটন বিকাশে ডিসি’র ১৭ প্রস্তাব

বাংলাদেশের জেলাসমূহের মধ্যে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এ সাতটি জেলার ৭ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর জলাভূমিতে ৪২৩টি হাওর নিয়ে হাওরাঞ্চল গঠিত। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৩৩টি, কিশোরগঞ্জে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২২টি, নেত্রকোনায় ৮০টি, সিলেটে ৪৩টি, হবিগঞ্জে ৩৮টি, মৌলভীবাজারে ৪টি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩টি হাওর রয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলার ৪৮টি উপজেলা নিয়ে গঠিত বিস্তীর্ণ এই হাওরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। এই বিশাল অঞ্চলে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সেই প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে পর্যটন বিকাশে ১৭টি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হকের সাথে বুধবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। হাওর অঞ্চলে পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে এই কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।

হাওর অঞ্চলে পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো হল-

১. হাওরাঞ্চলে পর্যটন বিকাশের জন্য অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।

২. হাওরাঞ্চলে পর্যটন বিকাশের জন্য জেলার সাথে উপজেলাসমূহের সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধি।

৩. সুনামগঞ্জ জেলায় ট্যুরিজম বোর্ডর অফিস স্থাপন এবং টুরিস্ট গাইড তৈরির জন্য স্থানীয় যুবক ও উদ্যোক্তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৪. সুনামগঞ্জ জেলায় পর্যটন স্পটগুলোতে টুরিস্ট পুলিশ ও নৌ পুলিশ নিয়োগ করা।

৫. সুনামগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ যেমন টেকেরঘাট নিলাদ্রী ডিসি পার্ক, বারেকের টিলা এলাকায় নিম্ন, উচ্চ ও মধ্যম মানের হোটেল ও মোটেল এবং কটেজ নির্মাণ।

৬. নৌপথে যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য বোটেল নির্মাণ।

৭. স্থানীয় প্রকৃতি, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ইকোটুরিজম ভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ।

৮. টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশের মানুষদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

৯. টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনবোট/স্পিডবোট চলাচল সীমিতকরণ এবং বিকল্প নৌযানের ব্যবস্থা করা।

১০. বাঁশতলা (হকনগর)/ডলুরা/টেকেরঘাট ও মহিষখলা শহীদ সৌধ এলাকায় পর্যটনবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ।

১১. বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের এবং চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শনক্রমে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান।

১২. স্থানীয় ৪ জন প্রধান কবির জন্মস্থানে গমনের জন্য সড়ক ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজিকরণ।

১৩. এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সমন্বয়ে বিস্তারিত প্রকল্প গ্রহণ।

১৪. জেলার বিভিন্ন স্থানে বোট ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ।

১৫. বারেকের টিলা এলাকার পর্যটন আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য রোপওয়ে নির্মাণ।

১৬. বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ব্যবহারে জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওয়াশরুম/ওয়াকওয়ে নির্মাণ।

১৭. যাদুকাটা নদীতে অবৈধবালু উত্তোলন বন্ধ করা, নদীর পাড় রক্ষা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প গ্রহণ।

সভায় উপস্থিত সকলে উক্ত বিষয়সমূহে একমত পোষণ করেন। সুনামগঞ্জের ৩ হাজার ৬৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে বর্ষায় প্রায় সবটুকুই ডুবে যায়, এখানে  প্রায় ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে বর্ষায় ৭-৮ লাখ মানুষ অলস সময় কাটায়। জেলায় সে অর্থে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পর্যটনে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x