Skip to content

আবারও বন্যার আশঙ্কা

গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টি আর ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে আসা পানির কারনে সুনামগঞ্জ এর হাওর এবং সুরমা নদীর পানি খুব দ্রুত বাড়ছে।

ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জ এর অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে  বন্যা। আকষ্মিক বন্যায় পানি বন্দি হয়ে পরেছে হাজার হাজার পরিবার।অনেক এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে অন্য এলাকার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোলঘেষা এই এলাকাটি মূলত কৃষিনির্ভর।কৃষিজ দ্রব্যের মধ্যে এই এলাকায় ধান চাষ হয় ব্যাপক পরিমানে।গেলো কয়েকমাস আগে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ব্যাপক পরিমানে বৃষ্টির ফলে এই এলাকায় দেখা দেয় আকষ্মিক বন্য, এলাকার রাস্তাঘাট সহ নানা জায়গার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ওই বন্যায়। এর আগে দুই দফা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে এই এলাকার বাসিন্দারা। বন্যা দীর্ঘায়িত হওয়ায় তারা পরেছিলো চরম দুর্ভোগে।

আগের বন্যায় এই সুনামগঞ্জ সদর এর বেরীগাও স্কুলের মাঠের পাশে, মঙ্গলকাটা, আমপাড়া, বালিকান্দি, ধারারগাও সহ প্রায় কয়েকশো জায়গার রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়, যেগুলো এখনো সম্পুর্ণভাবে ঠিক হয় নি।

জেলা প্রশাসনের হিসাব  অনুযায়ী আগের বন্যায়, সুনামগঞ্জে  ১ লাখ ৮ হাজার ১২৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছের খামারিরা। ক্ষতি হয়েছে রাস্তাঘাটের। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এর মতে ৬০ হেক্টর আমন জমি বন্যার পানিতে ডুবেছে কিন্তু আমন চাষীরা বলেছেন, ডুবে যাওয়া জমির পরিমাণ এর চেয়ে বহু বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীলরা বলেছেন, জেলার ১১ উপজেলায়ই এবার আমনের চাষাবাদ হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদরে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল- ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর, দোয়ারাবাজারে ১৪ হাজার ৫৬০, বিশ^ম্ভরপুরে ৮ হাজার ৭০০, জগন্নাথপুরে নয় হাজার ৪৫৮, জামালগঞ্জে তিন হাজার ৯৫০, তাহিরপুরে ছয় হাজার ১০০, ধর্মপাশায় ৫৩৪, ছাতকে ১৩ হাজার ১০০, দিরাইয়ে দুই হাজার ৭১৫ ও শাল্লায় চার হাজার ৭০ হেক্টর। সব মিলিয়ে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৩৮৭ হেক্টর। কৃষি বিভাগের দাবি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ হেক্টর বেশি চাষাবাদ হয়েছে অর্থাৎ ৮১ হাজার ৩৯৫ হেক্টর আমন চাষাবাদ হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার প্রায় সব হাওরে ঢুকে পড়েছে ঢলের পানি। সঙ্গে অতিবৃষ্টি সে পানি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আর এতেই এলাকার কৃষকদের মনে চরম দুঃশ্চিন্তা। সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির।মেঘালয় রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় এই এলাকায় পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে সুরমা নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। যেহেতু ঢল নামছে এবং একই সঙ্গে এই এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে তাই এই এলাকার সার্বিক বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।

বর্তমানে এই এলাকায় চলছে আমন ধান লাগানোর কাজ।  আগের বন্যার রেষ কাটতে না কাটতেই আবার নতুন বন্যায় দিশেহারা সুনামগঞ্জ এর কৃষকেরা।লাগাতার বৃষ্টি আর বন্যার পানির নিচে চলে যাওয়ায় পঁচে যাচ্ছে সদ্য রোপন করা আমন এর চারা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান জানান আজ বিকেল ৩ টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিলো বিপদসীমার ৭.৮৭ সেন্টিমিটার উপরে। বিগত ২৪ ঘন্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জি তে বৃষ্টিপাত এর পরিমান ছিলো ৪২৪ মিলিমিটার যা এই আকষ্মিক বন্যার জন্য অনেকাংশে দায়ী।

সঠিকভাবে হাওর রক্ষনাবেক্ষন না করার ফলে প্রতিবছরই প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসা পানির কারনে এই এলাকায় বন্যা দেখা দেয় আর প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়।ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বৃষ্টির পরিমান বাড়লে এবারও আগেরবারের চেয়ে বড়ো বন্যা হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় মানুষজন।

সুনামগঞ্জমিরর/এমএস

x