Skip to content

এমসি কলেজে গণধর্ষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক এবং ধর্মীয় অনুভূতিপ্রবণ রাষ্ট্র হলেও দিনের পর দিন ধর্ষণের ঘটনায় বারবারই দেশ কেঁপে উঠে। প্রতিবারই বিচারের নামে কালক্ষেপন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ভিক্টিমকে হুমকি, সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ উঠে।

নারী এবং শিশু সুরক্ষা আইন ২০০০ অনুযায়ী দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড সাথে জরিমানা। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন সাজা সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদন্ড। কিন্তু তারপরেও দেশে ধর্ষণের সংখ্যা দিন দিন আশংকাজনকভাবে বাড়ছে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং সামাজিক প্রভাব সুষ্ঠু বিচারের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা।

সর্বশেষ সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে একজন তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সবাই ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া সংবাদ থেকে জানা যায়, ঐ তরুণী তাঁর স্বামীসহ এমসি কলেজে বেড়াতে গেলে সেখান থেকে অভিযুক্তরা তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। বাধা দিলে তাঁর স্বামীকে মারধোর করা হয়। এরপর ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে নিয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত ধর্ষণ করা হয়। রাত দশটার পরে পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে যায় এবং নির্যাতিত দম্পতিকে উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য, ছাত্রাবাসের এই কক্ষটি ছাত্রলীগের কক্ষ হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালান। এই সুযোগে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

ধর্ষণের শিকার তরুণীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। উক্ত ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

অভিযুক্ত ধর্ষকদের ভাইরাল হওয়া ছবি

এদিকে, এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের পরিচয় এবং ছবি ভাইরাল হয়েছে, সবাই তাদের মৃত্যুদন্ড দাবি করছেন। দাবি উঠেছে এম সি কলেজের নিরাপত্তা জোরদারেরও। ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রতিরোধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সবাই।

সুনামগঞ্জমিরর/এমএম/এসএ

x