Skip to content

গণধর্ষণ মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ মামলার ৩নং আসামি ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রনি (২৮) ও ৫নং আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ ও র‌্যাব-৯। এ নিয়ে এ মামলায় মোট চারজন গ্রেফতার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে মাহবুবুর রহমান রনিকে গ্রেফতার করে র‌্যাবের একটি টিম। আর রবিউল ইসলামকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত, মাহবুবুর রহমান রনি হবিগঞ্জ সদর থানার বাগুনীপাড়ার শাহ মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে আর রবিউল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানাধীন বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের বাসিন্দা।

গ্রেফতারকৃত মাহবুবুর রহমান রনি এবং রবিউল ইসলাম

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম বলেন, সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেলে তরুণীকে গণধর্ষণের মামলার আসামি রবিউলকে  আমাদের ডিবি পুলিশের একটি টিম নবীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে। রবিউল গণধর্ষণ মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। অন্যদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‌্যাব-৯ এর একটি টিম শায়েস্তাগঞ্জে অভিযান চালিয়ে রনিকে গ্রেফতার করে। রনি গণধর্ষণ মামলার তিন নম্বর আসামি।

এর আগে রোববার ভোরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি সাইফুরকে এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা সীমান্ত এলাকা থেকে ৪ নম্বর আসামি অর্জুনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই স্বামী-স্ত্রী এমসি কলেজে বেড়াতে যান। সেই সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫-৬ জন জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে ১৯ বছরের গৃহবধূকে ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে শনিবার সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী। মামলার আসামিরা হলেন- এম সাইফুর রহমান, মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এদের মধ্যে চারজন ওই কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়া আরও তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ঘটনার পরই অভিযুক্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। শুক্রবার রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপও উদ্ধার করে।

রোববার দুপুরে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জবানবন্দি দেন নির্যাতিত গৃহবধূ। এরপর তাকে আবার হাসপাতালে নেয়া হয়।

সুনামগঞ্জমিরর/এআরআই/এসএ

x