Skip to content

এমসি কলেজে গণধর্ষণের আরেক আসামি গ্রেফতার

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজন নামে আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রোববার দিবাগত রাত (২৮ সেপ্টেম্বর) ১টার দিকে ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলার কচুয়া নয়াটিলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় রাজনকে সহযোগিতা করায় আইনুল নামের আরেক যুবককেও গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব ও ডিবি সূত্র হতে জানা যায়, সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষন মামলার অন্যতম আসামী ছাত্রলীগ নেতা রাজন ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলার কচুয়া নয়াটিলা এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে। গোপন খবরের ভিত্তিতে সেই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে রাত ১টার দিকে রাজন ও তাকে সহায়তা কারী আইনুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে সিলেট নিয়ে আসা হয়েছে। রাজন ওই মামলার অজ্ঞাত আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে রোববার( ২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে গণধর্ষণ মামলার আসামি রবিউলকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ আর এ মামলার আরেক আসামি রনিকে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯ এর একটি টিম। এবং ভোরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি সাইফুরকে এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা সীমান্ত এলাকা থেকে ৪ নম্বর আসামি অর্জুনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই স্বামী-স্ত্রী এমসি কলেজে বেড়াতে যান। সেই সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৫-৬ জন জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় দম্পতিকে। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে ১৯ বছরের গৃহবধূকে ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে শনিবার সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী। মামলার আসামিরা হলেন- এম সাইফুর রহমান, মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এদের মধ্যে চারজন ওই কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়া আরও তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ঘটনার পরই অভিযুক্তদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। শুক্রবার রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপও উদ্ধার করে।

রোববার দুপুরে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জবানবন্দি দেন নির্যাতিত গৃহবধূ। এরপর তাকে আবার হাসপাতালে নেয়া হয়।

সুনামগঞ্জমিরর/এআরআই/এসএ

x