Skip to content

ধর্ষণের পর ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ধর্ষকরা

সিলেটে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণীকে গণধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হননি ধর্ষকরা। তরুণীকে ছেড়ে দিলেও তার স্বামীকে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এছাড়া তরুণী ওই গৃহবধূর গলা ও কানের স্বর্ণালঙ্কার এবং তার স্বামীর মানিব্যাগ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেন তারা।

ধর্ষণের ঘটনায় শাহপরাণ থানায় করা মামলায় এজাহারে এসব অভিযোগ করেছেন ওই তরুণীর স্বামী।

মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বিকাল ৫টায় তিনি স্ত্রীসহ প্রাইভেটকারযোগে হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে পৌনে ৮টার দিকে এমসি কলেজের মূল ফটকের সামনে এসে পাকা রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে পাশের দোকানে যান। এ সময় কয়েকজন স্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে আসামি সাইফুর রহমান এবং অর্জুন লস্কর তাকে চড়-থাপ্পর মারতে থাকেন। পরে আসামিরা স্ত্রীসহ তাকে গাড়িতে তুলে জোরপূর্বক গাড়িতে উঠিয়ে নেন। এ সময় তারেকুল ইসলাম তারেক ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি চালান এবং তাদের পেছনের সিটে বসিয়ে আসামি সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর তাদের সঙ্গে পাশে বসেন।

এছাড়া শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে উঠে বসেন। তার গাড়ি নিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গনের ৭নং ব্লকের ৫তলা নতুন ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে খালি জায়গায় দাঁড় করান। এরপর অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলযোগে পেছনে পেছনে ঘটনাস্থলে যান।

নির্যাতিতা তরুণীর স্বামী বলেন, ছাত্রাবাস চত্বরে যাওয়ার পর তরিকুল তার মানিব্যাগ থেকে দুই হাজার টাকা এবং শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি তার স্ত্রী কানের দুল ও অর্জুন লস্কর স্ত্রীর গলার সোনার চেইন কেড়ে নেন। পরে স্ত্রীকে গাড়িতে রেখে সাইফুর, তারেক রনি ও অর্জুন বাদীকে ৭নং ব্লকের পশ্চিম পাশে নিয়ে যান। এ সময় সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান রনি ও অর্জুন লস্কর প্রাইভেটকারের ভেতরেই তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন। তখন স্ত্রীর চিৎকার শুনে স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গেলে আসামিরা তাকে মারধোর করে আটকে রাখেন।

তরুণীর স্বামী বলেন, আধঘন্টা পর তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে এলে আসামিরা প্রাইভেটকার আটকে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে চলে যেতে এবং ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কার ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে বলেন। এ সময় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটে কলেজ ছাত্রাবাসের গেটে যান। এরপর সিএনজি যোগে টিলাগড় পয়েন্টে গিয়ে পুলিশে সংবাদ দেন। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।

সুনামগঞ্জমিরর/এসএ

x