Skip to content

এমপি রতন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জানতে চেয়েছে দুদক

সুনামগঞ্জ-১ আসনের (জাতীয় সংসদের ২২৪নং) বর্তমান সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তার স্ত্রী মাহমুদা হোসেন লতার ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় নথি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী স্বাক্ষরিত চিঠি বিএফআইইউ মহাব্যবস্থাপকের কাছে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, এমপি রতনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে রতন ও তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের রেকর্ডপত্রসহ যাবতীয় তথ্য জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বরাবর পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

সাংসদ রতনের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকাসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি দুদক অনুসন্ধান শুরু করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রতনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের এক আবেদনে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে এমপি রতনের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

দুদকে পেশ করা রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সরকারি সম্পত্তি বেদখল, এলাকার মানুষের সম্পদ লুটপাট করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে বাল ও পাথর উত্তোলন, কয়লা আমদানিকারক সমিতি, বিভিন্ন মার্কেট, বাজার, নানাজনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজিতে রেকর্ড করেছেন। নিজ এলাকায় রতন এক আতঙ্কের নাম। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ-সম্পদ রাখা হয়েছে স্ত্রী মাহমুদা হোসেন লতার নামেও।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এমপি রতনের নামে ঢাকা, সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জে ১৩টি বাড়ি রয়েছে। নিজ গ্রাম ধর্মপাশায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করেছেন ‘হাওর বাংলা’ নামে বিলাসবহুল বাড়ি। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে জেলা পুলিশ লাইন্সের বিপরীতে ৭ কোটি টাকায় ‘পায়েল পিউ’ নামের বাড়ি ক্রয় করেন। ধর্মপাশা সদরে তার আরও সাতটি বাড়ি রয়েছে। মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরে রয়েছে আরও দুটি বাড়ি। নেত্রকোনা জেলা শহরেও একটি বাড়ি রয়েছে। নেত্রকোনা শহরে মা-বাবার নামে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকায় জমি ক্রয় করেছেন। ঢাকার গুলশানের নিকেতনে তার নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। সহোদর যতন মিয়ার নামে কেনা হয়েছে পাঁচশ’ একর জমি।

এ ছাড়া রতনকে পাঠানো দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, ঠিকাদার জিকে শামীমসহ অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বেআইনি ক্যাসিনো ব্যবসা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সুনামগঞ্জমিরর/এসপি

x