Skip to content

আইনজীবীহীন বিচার প্রার্থীর আইনি সহায়তা দেবেন জেলা বারের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি

সম্প্রতি সিলেটে ঘটে যাওয়া গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে আসামীদের সকলকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জনসাধারণের মধ্যে অধিকাংশই ধর্ষকের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এসকল আসামীদের পক্ষে আইনি সহায়তা দিতে রাজি হননি সিলেট জেলা বারের কোন আইনজীবী। সিলেট জেলা বারের আইনজীবীরা এতে করে সারা দেশে বাহবা কুড়িয়েছেন।
কিন্তু আইনজ্ঞদের মতে এই পুরো প্রক্রিয়াটিই অসাংবিধানিক।

সাম্প্রতিক এমসি কলেজে সংঘটিত ধর্ষণ মামলায় আসামিদের পক্ষে দাঁড়াননি কোন আইনজীবী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের নানান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইনের শিক্ষার্থীরা ও আইনজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তাদের মতামত তুলে ধরেন। সেখানে তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন। পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ আইন, সংবিধানের চর্চাকে অব্যাহত রাখার জন্য মামলার সকল পক্ষকে আইনি সহায়তা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ অনুসারে দেশের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। অর্থাৎ সকলের সমান আইনি সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যত বড় অভিযোগেই অভিযুক্ত হোক না কেন, তাকে তার আইনি অধিকার থেকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। হীক সে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত কিংবা খুনের। এছাড়াও বিভিন্ন কেস ল’ এর মাধ্যমেও দেশের উচ্চ আদালত এ বিষয়টিকে বারংবার স্পষ্ট করেছেন। এর মধ্যে শেখ আব্দুস সবুর বনাম রিটার্নিং অফিসার, আব্দুল মান্নান খান বনাম বাংলাদেশ, আফিসার আলি চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বনাম আব্দুল আজিজ সহ আরো অনেক মামলা উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও বাংলদেশ বার কাউন্সিল প্রণীত ‘ক্যাননস অফ প্রোফেশনাল কন্ডাক্ট এন্ড এটিকেটস’ এর অধ্যায় দুই এর ৫ ও অধ্যায় তিন এর ৯ নাম্বার পয়েন্টেও একজন বিচার প্রার্থী ও একজন আইনজীবীর মধ্যকার পেশাদারী সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে। সেখানে বলা হয়েছে কোন আসামী কে দোষী সাব্যস্ত করা রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীর দায়িত্ব নয় বরং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করাই তার প্রাথমিক দায়িত্ব। প্রকৃত ঘটনা গোপন করা বা যে সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে আসামীর নির্দোষিতা প্রমাণ হয় এমন সাক্ষীকে সাক্ষ্যদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা ঘৃণা ও তিরস্কার যোগ্য কাজ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে অধিকাংশ অভিযুক্তের কথা শোনার আগেই দেশে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তাকে দোষী ঘোষণা করে দিচ্ছে। তাই আইন বিশেষজ্ঞদের মতে দেশে এ ধরণের অসাংবিধানিক চর্চা, দেশের বিচার বিভাগের জন্য হুমকি স্বরূপ।

এদিকে ‘ক্যাননস অফ প্রোফেশনাল কন্ডাক্ট এন্ড এটিকেটস’ এর তৃতীয় অধ্যায়ের ৯ নং পয়েন্ট মতে একজন আইনজীবী তার ব্যক্তিগত অভিমতের উর্ধ্বে উঠে ও কোন অভিযুক্ত কে আইনি সহায়তা দিতে পারবেন। তা না হলে শুধুমাত্র সন্দেহের কারণে কোন নির্দোষ ব্যক্তি তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। এবং বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সকল সম্ভব্য যুক্তিতর্ক পূর্বক নিরপেক্ষ ভাবে তুলে ধরবেন যাতে করে বিবাদী তার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।

হাইকোর্ট বিভাগ আইনজীবীহীন আসামিদের মামলা পরিচালনার জন্য বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে সাম্প্রতিককালে কিশোরগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জানান। হাইকোর্ট উক্ত মামলাকে কেন্দ্র করে দেশের ৬৪ জেলার বার এসোসিয়েশন বা আইনজীবী সমিতি বরাবর একটি নোটিস পাঠান। ওই আদেশে বলা আছে যে, কোন বিচার প্রার্থী যদি ওই জেলার জজ কোর্টে কোন আইনি সহায়তা চায় এবং কোন আইনজীবী যদি তার হয়ে সেই আইনি সহায়তা প্রদান না করে তাহলে উক্ত জেলা বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত ব্যক্তির হয়ে আইনি সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে। কারণ এমন অসাংবিধানিক চর্চা উক্ত বিচারপ্রার্থীর অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে।

সুনামগঞ্জমিরর/এবি

x