Skip to content

সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত তাহিরপুরের গ্রামগুলো

জেলার তাহিরপুর উপজেলার হাওরঞ্চলের অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রামগুলো এখন সৌরবিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে। সারা দেশের মানুষ যখন লোডশেডিং এর ভোগান্তিতে ভোগে, তখন তাহিরপুর উপজেলার ভাটি অঞ্চলের হাওর পাড়ের মানুষ নির্বিঘেœ ব্যবহার করছে সৌরবিদ্যুত, পাচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা। প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে স্বল্প আয়ের লোকজন এ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে।

বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। গ্রামের অন্ধকার জীবনে সৌরবিদ্যুত নিয়ে এসেছে আলোকিত সংবাদ। সৌরবিদ্যুত আসে সূর্যের আলো থেকে। দিনের বেলা সূর্যের আলো সৌর প্যানেলের মাধ্যমে এনার্জি ধারণ করে তা প্রয়োজনে ব্যবহার করার পদ্ধতিকে বলা হয় সৌরবিদ্যুত। সৌরবিদ্যুত ব্যবস্থা পরিবেশবন্ধব।

বিদ্যুৎ একটা সময় হাওর পাড়ের মানুষের কাছে শুধুই স্বপ্ন ছিল, আজ তা সৌরবিদ্যুতের কল্যানে বাস্তবে পরিণত হয়েছে। উপজেলার হাওরাঞ্চলের গ্রামের পর গ্রাম আলোকিত হচ্ছে সৌরবিদ্যুতের আলোয়। সৌরবিদ্যুত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারীরা এমনটাই জানালেন।

সৌরবিদ্যুত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সাল থেকে দেশের ৬৪ জেলায় বিদ্যুত সুবিধাবঞ্চিত ৭০ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুতায়িত করতে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় রুরাল সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন (আরএসএফ) উদ্যোগে গ্রামীণ শক্তি উপজেলার বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর মানুষের জীবন-যাত্রার মানোন্নয়নে সৌরবিদ্যুত প্রকল্প চালু করে। ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও বাজারে গ্রামীন শক্তি প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। তাহিরপুর উপজেলার বালিয়াঘাট, বাদাঘাট, কলাগাঁও, তেলীগাঁও, কুড়েপাড়া, দুধের আউটা, নয়াবন্দ, শ্রীপুর, তরং মন্দিয়াতা, গোলাবাড়ী, লামাগাও, বড়দল, মাটিকাটা, লেদারবন্দসহ বিভিন্ন দেড় শতাধিক গ্রামে সৌরবিদ্যুত রয়েছে।

বাদাঘাট গ্রামীন শক্তির অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায়, তাহিরপুর সদর, বাদাঘাট, বড়ছড়া ও কলাগাঁওসহ ৪টি ইউনিট রয়েছে। তাহিরপুর সদরে সৌরবিদ্যুত গ্রাহক সংখ্যা ১২৮১জন, বড়ছড়া গ্রাহক সংখ্যা ১৭০৫জন, কলাগাঁও গ্রাহক সংখ্যা ৩৫০০ জন, বাদাঘাট গ্রাহক সংখ্যা ২৩৮৫ জন।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কুড়েপাড়া গ্রামের শাহানুর মেম্বার, বালিয়াঘাট গ্রামের ইসলাম উদ্দিন, দুধের আউটা গ্রামের কয়লা ব্যবসায়ী ফারুক আহম্মদ, জিয়াউর রহমান, গোলাবাড়ী গ্রামের সবুজ আলম এর সাথে কথা বললে তারা জানান, সৌরবিদ্যুতের সুবিধার ফলে এখন আর অন্ধকারে থাকতে হয়না, সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে টেলিভিশন, টেবিল ফ্যান, সিডি প্লেয়ার, মোবাইল চার্জ দেয়া ও কম্পিউটার চালানোসহ নানা কাজ করতে পারছেন তাঁরা।

বাদাঘাট গ্রামীন শক্তির রিজিওনাল ম্যানেজার সনাতন সরকার বললেন, বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলায় ৮ হাজার ৮৭১টি পরিবার কে সৌরবিদ্যুতের সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খান জানান, লোডশেডিংয়ের কোনো চিন্তা নেই, ভাটি অঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ যাওয়ার সম্ভনা একবারে কম সেখানে সৌরবিদ্যুত বিদ্যুতের চাহিদা পূরন করতে সক্ষম হচ্ছে। গ্রামবাসীর জীবনযাত্রার মান এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

x