Skip to content

বাংলাদেশ নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টের ইতিহাসে দীর্ঘ বিতর্ক!

বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী এই বিতর্কে অংশ নেন পার্লামেন্টের সকল দলের এমপিরা।

সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া পার্লামেন্টে দিনের প্রথম অধিবেশনেই স্থান পায় বাংলাদেশ ইস্যু। দুপুর দেড়টায় বির্তক শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয় বেলা ২টা ১৮ মিনিটে। পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার লিনসে হয়েল এর সভাপতিত্বে শুরুতে বির্তকের সূচনা করেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি এ্যান মেইন।

এ্যান মেইন তার বক্তব্যে বলেন, আমি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলসমূহকে গণতন্ত্রের জন্য একসাথে বসে কাজ করা আহবান জানাই। নির্বাচনের আগে সিনিয়র মন্ত্রী সাঈদা বেরোনাস ওয়ার্সি দেশটি সফরে যান এবং শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে সমঝোতার জন্য সংলাপের তাগিদ দেন। কিন্তু এ উদ্যেগ ফলপ্রসু হয়নি।
বৃটিশ এমপিরা তাদের বক্তব্যে বলেন , বাংলাদেশ বৃটেনের একটি অনত্যম গুরুত্বপূর্ন উন্নয়ন সহযোগী। বৃটেন থেকে প্রতিবছর ২ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থ সহায়তা পায় বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল রাস্ট্র দেখতে চায় বৃটেন। বৃটিশ এমপিরা বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নানা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বৃটিশ পার্লামেন্টের এমপিদের আলোচনায় উঠে আসে, দেশের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন পরবর্তী সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, বিরোধী দলের ভূমিকা, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া, মানবাধিকার লঙ্গন ইস্যুসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিনা বিচারে মানুষ হত্যার মতো গুরুতর এসব অভিযোগগুলো। এছাড়াও আলোচনায় স্থান পায় নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ রাজনৈতিক নেতাদের গুমের ঘটনা ও জামায়াতে ইসলামির রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে।

পার্লামেন্ট আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে বৃটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার ডেভিড লিজিংটন, বাংলাদেশে পূনরায় একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিবার্চন দাবী করে সরকারকে দ্রুত পদেক্ষপ নিতে আহবান জানান। সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের প্রশংসা করেন লিজিংটন।

শ্যাডো ফরেন অফিস মিনিস্টার ক্যারি ম্যাকার্থি, বাংলাদেশ সরকারকে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের আত্মবিশ্বাস অর্জন করা এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচন বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যাপার তবে এটি কতটুকু স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে তা দেখার অধিকার আছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের।

এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি রিচার্ড ফুলার, লেবার পার্টির এমপি গ্যাবিন সুকার, কনজারভেটিভ পার্টির এমপি নেইল পারিস, লেবার পার্টির প্রবীন নেতা জেরিমি করভিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি জন হেমিং, জিম ফিজপ্রেট্রিক এমপি, বাঙালী এমপি রোশনারা আলী ও কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বব বেকম্যান, রহমান চিশতী এমপি, নিক ডি ভয়েস এমপি, জনাথন আসরথ এমপি, লিবডেম এমপি মার্টিন হরউডসহ বেশ কয়েকজন এমপি।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির রিচার্ড ফুলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো খুবই গুরুতর। বিরোধীদলহীণ প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচন, বিনা বিচারের হত্যা ও মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বাংলাদেশে। রেপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) বাংলাদেশের ৬০০ মানুষকে এ পর্যন্ত হত্যা করেছে উল্লেখ করে সরকারদলীয় এই এমপি এক পর্যায়ে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের ইস্যুটিও উত্থাপন করেন বৃটিশ পার্লামেন্টে। তিনি বিশ্বনাথ ভ্রমনের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের এমন একজন মেধাবী নেতা নিখোঁজ হওয়ার পরও সরকার নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

লেবার পার্টির প্রবীন নেতা জেরিমি করভিন, বাংলাদেশে মিডিয়ার উপর সরকারী দমন পীড়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরী। তিনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে বলেন, একটি দেশে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন না হলে বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠে। তিনি সাথে সাথে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা আহবান জানান।
পার্লামেন্টে বাঙালী এমপি রোশনারা আলী, বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের জন্য দু:খ প্রকাশ করে বলেন , আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ সব সময়ই চিন্তিত থাকেন দেশে ফেলে আসা তাদের স্বজনদের ব্যাপারে। তিনি বলেন, দেশে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বড়ো দলগুলো অতীতে ব্যর্থ হয়েছে। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন স্বচ্ছ হয়নি উল্লেখ করে তিনি দেশের সহিংসতা বন্ধ এবং বিরোধী দলের গনতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাঁধা না দেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান।

কনজারভেটিভ পাটির এমপি নেইল পারিস বলেন, বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী দুজনই দুজনের প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করেন। যা দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে প্রভাব পড়ছে। এটা একটি দেশে গনতান্ত্রিক উত্তরনে কোনভাবেই কাম্য নয়।

x